বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী ‘মহাগঠবন্ধন’-কে কার্যত ধুয়ে-মুছে সাফ করে দিয়ে ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২টিতে জয়লাভ করেছে বিজেপি শাসিত এনডিএ জোট। আসন সংখ্যা এবং ভোট শতাংশের নিরিখে বিজেপি এবং জেডি(ইউ)-এর বিপুল জয়কে সকলে সাধুবাদ জানালেও, এই নির্বাচনের ‘স্টার পারফর্মার’ হিসাবে উঠে এসেছেন চিরাগ পাসওয়ান এবং তাঁর দল লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস)।
নিজের দলের স্ট্রাইক রেট এবং নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে বিহারে এনডিএ সরকার গঠন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চিরাগ। তিনি বলেন, বাবা রাম বিলাস পাসওয়ানের রাজনৈতিক জীবনের ওঠাপড়ার ইতিহাস মনে করিয়ে বলেন, “২০০৫ সালের পর এটা আমাদের দলের দ্বিতীয় সেরা পারফর্ম্যান্স।”
চিরাগ আরও বলেন, “২০০৯ সালে একবার আমার বাবা নির্বাচনে জিততে পারেননি। কিন্তু ২০১৪ সালে তিনি ফিরে আসেন। একই জিনিস ২০২০ সালে আমার সঙ্গে হয়েছিল, যখন আমরা খারাপ পারফর্ম করি এবং ২০২১ সাল আমাদের খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু, ২০২৪ সালে আমরা ৫টি লোকসভা আসনের ৫টিতেই জয়ী হয়ে ১০০ শতাংশ স্ট্রাইক রেট দেখিয়েছি। এবার বিধানসভা নির্বাচনেও আমরা সেটা প্রমাণ করে দেখালাম।”
এবারের নির্বাচনে ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৯টিতেই জয়লাভ করেছে এলজেপি(রাম বিলাস)। প্রায় ৬৫.৫ শতাংশ স্ট্রাইক রেট নিয়ে এনডিএ-র ছোট শরিক দল হলেও নিজেদের অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে তারা। এমনকি, এলজেপি(রাম বিলাস) এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনে এনডিএ-কে জয় এনে দিয়েছে, যেখানে জোট এর আগে কখনও দাঁত ফোটাতে পারেনি।
ফলাফল ঘোষণার পর চিরাগ পাসওয়ান মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতীশ কুমারকেই সমর্থন করার বার্তা দিয়েছেন। জেডি(ইউ)-এর সঙ্গে আসন বোঝাপড়া নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নীতীশের নেতৃত্বেই বিহারে সরকার গঠিত হবে এবং জেডি(ইউ) ও এলজেপি(আরভি)-এর মধ্যে আর কোনও দ্বন্দ্ব নেই।