আরজি কর মেডিকেল কলেজ এবং কসবা ল কলেজের ক্যাম্পাসের মধ্যে ছাত্রীদের উপর হামলার ঘটনার পর এবার নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেছেন মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের একাংশ। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তার ফাঁক এবং শৌচাগারের বেহাল দশা নিয়ে সরব হয়েছেন তাঁরা, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পড়ুয়ারা।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে ক্লাসরুম পর্যন্ত তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নিরাপত্তা রক্ষী নেই, এবং পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরারও অভাব রয়েছে। এর ফলে বহিরাগতরা অনায়াসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারছে, যা ছাত্রীদের সুরক্ষার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
নিরাপত্তাহীনতা শুধু ক্যাম্পাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, শৌচাগার নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রীরা। তাঁদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৌচাগারগুলির অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। একা শৌচাগারে যেতে তাঁরা ভয় পান, কারণ শৌচাগারের দরজায় কোনো ছিটকিনি নেই। ফলে শৌচাগারের ভেতরেও ছাত্রীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
ছাত্রীরা আতঙ্কে রয়েছেন যে, আরজি কর বা কসবা ল কলেজের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেকোনো সময় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়েও ঘটতে পারে। তাঁরা অবিলম্বে শৌচাগারের প্রয়োজনীয় মেরামতি এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে সঠিক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
পানীয় জল ও হোস্টেলের সমস্যা:
নিরাপত্তার পাশাপাশি পানীয় জলের সমস্যা নিয়েও সরব হয়েছেন ছাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, ঝাঁ চকচকে হোস্টেল ভবন নির্মাণ হলেও সেখানে পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা নেই, এমনকি থাকার ব্যবস্থাও নেই। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁদের বাইরে বেশি ভাড়া দিয়ে থাকতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি ও রাজনৈতিক চাপানউতোর:
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার অভাব দূর করার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাস জানান, নতুন সিকিউরিটি সিস্টেমের জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন করা হয়েছে।
শুধু শিক্ষার্থী বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের জেলা সভাপতিও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার অভাবের কথা স্বীকার করেছেন। আর এই ইস্যুতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্য বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “কসবার মতো ঘটনা এখানে ঘটবে না তো, সেই আতঙ্কে ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীরা। অবাধে এখানে বহিরাগতরা প্রবেশ করে। শিক্ষা নিয়ে এইরকম অবহেলা সহ্য করা যাবে না, দরকার পড়লে আমরা আন্দোলনে নামব।”
সামগ্রিকভাবে, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমস্যার সমাধান করা এখন কর্তৃপক্ষের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।