বেলুচিস্তানে BLA -র জোড়া হামলা, ২৯ পাক সেনা নিহত, পাকিস্তানের স্বাধীনতা সংকটে?

এমনিতেই অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং জঙ্গিবাদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান এবার তার সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তানকে হারানোর মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি এমন দিকে এগোচ্ছে যে, যেকোনো মুহূর্তে বেলুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) কালাত ও কোয়েটায় দুটি বড়সড় হামলা চালিয়েছে, যেখানে ২৯ জন পাক সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএলএ। বালোচ লিবারেশন আর্মির হুমকি, বেলুচিস্তান স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে।

বিএলএ-র স্পেশাল স্কোয়াডের নিখুঁত হামলা:
বিএলএ-র তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের স্পেশাল ইউনিট ‘ফতেহ স্কোয়াড’ সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের ইনটেলিজেন্স ইউনিট ‘জিরাব’ দীর্ঘদিন ধরে পাক সেনাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। অবশেষে মঙ্গলবার করাচি থেকে কোয়েটা যাওয়ার পথে পাক সেনাদের একটি বাসে আইইডি (IED) বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। এই হামলায় ২৭ জন সেনার মৃত্যু হয়।

বিএলএ দাবি করেছে, এই হামলা এতটাই নিখুঁত ছিল যে বাসে থাকা কাওয়ালি গায়করা তাদের লক্ষ্য ছিল না, তাই তাদের কোনো ক্ষতি করা হয়নি। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে হামলাটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল। পাকিস্তানের সামরিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এত বড় হামলার পরও তারা প্রথমে মুখ খুলতে ভয় পেয়েছিল।

কালাতে দ্বিতীয় হামলা:
কোয়েটার পর একই দিনে বিএলএ কালাতেও আরেকটি হামলা চালায়। সেখানে সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যাতে আরও দুই সেনা নিহত হন। অর্থাৎ, একদিনে মোট ২৯ জন সেনাকে নিশ্চিহ্ন করেছে বিএলএ। পাকিস্তানের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বিশাল ধাক্কা।

পাক সেনা নীরব, আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ:
এই ভয়াবহ ঘটনাগুলোর পরও পাকিস্তান সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, একটি দেশের অভ্যন্তরে যদি এত বড় মাপের বিদ্রোহ ও সহিংসতা চলতে পারে, তাহলে সেই দেশের শাসনব্যবস্থা আদৌ কার্যকর আছে কিনা।

এই হামলার দায় স্বীকার করে বিএলএ দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছে, ‘যতক্ষণ না বেলুচিস্তান স্বাধীন হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের লড়াই চলবে।’ বালোচ জনগণের বহুদিনের দাবি, পাকিস্তান জোর করে তাদের এলাকা দখল করে রেখেছে এবং তারা নিজেদের ভূমির ওপর পূর্ণ অধিকার ও স্বাধীনতা চায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে ভারত ও আফগানিস্তান সীমান্তে ক্রমাগত ব্যর্থতা, অন্যদিকে শোচনীয় অর্থনৈতিক অবস্থা— সব মিলিয়ে পাকিস্তান এখন একটি ‘ফেল স্টেট’-এর দিকেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, যার ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। নিজের দেশের ভেতরেই পরিস্থিতি সামলাতে না পারা পাকিস্তানের জন্য এটি এক গুরুতর সংকট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy