জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট এবং আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে নাবালকদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী করে এফআইআর রুজু করছে, সে বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানতে চায়, সাত বছরের কম সাজাযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রেও কেন নাবালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে এবং তাদের হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে।
মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে রাজ্যের ১৬টি জেলার উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রেও নাবালকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে এবং অনেক সময় সন্দেহবশে তাদের তুলে নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট অনুযায়ী, সাত বছরের কম সাজাযোগ্য অপরাধে কোনও নাবালককে গ্রেপ্তার করা বা তার নামে এফআইআর রুজু করার কোনো সুযোগ নেই। তবুও পুলিশ এই আইন অমান্য করে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল বীরভূমের মল্লারপুরে করোনা লকডাউনের সময় একটি চুরির ঘটনায়, যেখানে একজন নাবালককে পুলিশি হেফাজতে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পূর্বে পুলিশকে কঠোরভাবে আইন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছিল।
বিচারপতি পালের ডিভিশন বেঞ্চ এখন রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্টের এই পদক্ষেপ নাবালকদের অধিকার সুরক্ষায় এবং পুলিশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।