কর্নাটকের গোকর্ণ এলাকার রামতীর্থ পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে ঘেরা এক দুর্গম গুহা থেকে দুই মেয়ে-সহ রাশিয়ার এক মহিলা, নিনা কুটিনাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রকৃতির মাঝে আধ্যাত্মিক সাধনার উদ্দেশ্যে লোকালয়ের কোলাহল থেকে দূরে এই নিভৃতবাস বেছে নিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
নিনা কুটিনা নিজেকে ‘প্রকৃতিপ্রেমী’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, তিনি বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশের জঙ্গলে বসবাস করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা যে বিশাল বড় জঙ্গলে লোকালয় থেকে অনেকটা দূরে একেবারে নির্বাসিত হয়ে থাকতাম এমনটা নয়। তাছাড়া গুহাটি গ্রামের খুব কাছেই। তাই প্রয়োজন মতো গ্রাম থেকে খাবার এবং অন্যান্য জিনিস কিনে আনা যেত।” তার দুই মেয়ে আমা ও প্রেমা এই জীবনযাত্রায় বেশ খুশি ছিল এবং আগেও জঙ্গলে থাকার অভিজ্ঞতা থাকায় গুহায় থাকতে তাদের কোনো অসুবিধা হয়নি বলেও নিনা জানান। ইনস্ট্যান্ট ফুড খেয়ে তারা জীবন ধারণ করত এবং গুহার মধ্যে প্লাস্টিক বিছিয়ে তার উপরেই ঘুমাত।
রামতীর্থ পাহাড়ের এই এলাকাটি ধসপ্রবণ হওয়ায়, রুটিনমাফিক সরেজমিনে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করতে গিয়েছিলেন আধিকারিকরা। তখনই একটি গুহার সামনে জামাকাপড় শুকাতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপরই ওই এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে নিনা ও তাঁর দুই মেয়ের সন্ধান মেলে। উত্তর কানাড়া পুলিশ সুপার এম নারায়ণা গুহার মধ্যে তাদের এমন নিভৃত জীবনযাপন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিনা ২০১৬ সালে বিজ়নেস ভিসায় গোয়ায় এসেছিলেন এবং ২০১৭ সালে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। যদিও নিনা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, তাঁর ভিসা ২০১৭ সালে নয়, বরং মাত্র কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, ২০১৭ সালের পর তিনি আরও চারটি দেশে ভ্রমণ করে আবার মেয়েদের নিয়ে ভারতে ফিরে আসেন।
তবে পুলিশ সুপার নারায়ণা জানান, ২০১৭ সালে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর গোয়ার পানাজির ফরেনারস রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস থেকে নিনাকে বাইরে যাওয়ার পারমিট দেওয়া হয়। সেই পারমিট নিয়ে ভারত থেকে বেরিয়ে তিনি নেপালে থাকতে শুরু করেন এবং এরপর ২০১৮ সালে আবার ভারতে ফিরে আসেন।
বর্তমানে নিনা ও তাঁর দুই মেয়েকে কারওয়ারের একটি মহিলা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদের রাশিয়ায় ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক সাধনার এক ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক ভিসা ও অভিবাসন নীতির জটিলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।