স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি এবং বিধিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলা খারিজের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে মামলার শুনানিতে কার্যত ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে। এর ফলে এসএসসি-র নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার পথ আরও সুগম হলো।
উল্লেখ্য, এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চও এই সংক্রান্ত যাবতীয় আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সেই রায়কেই এবার সুপ্রিম কোর্ট সমর্থন করল।
সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর সওয়াল করার সময় বলেন, “নতুন বিজ্ঞপ্তিতে (এসএসসি-র) ১০ নম্বর অতিরিক্ত দেওয়া হয়েছে। অযোগ্যদের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে, বলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের মূল রায়ে। তাঁরা কোনওভাবেই নিযুক্ত হতে পারবেন না, বলা হয়েছিল সেই কথা।” তিনি বোঝাতে চান যে, নতুন বিজ্ঞপ্তিটি সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের রায়ের পরিপন্থী।
তবে, বিচারপতি সঞ্জয় কুমার তাঁর যুক্তির পাল্টা হিসেবে কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সার্ভিস কমিশন নিজেদের মতো করে স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করতে পারে। আপনারা অর্ডার টুইস্ট করছেন কী করে? আমরা এই বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী নই। যাঁদের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আপনাদের সমস্যা কোথায়? এমন করলে সমস্যার কোনও সমাধান হবে না।” বিচারপতির এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, তিনি মামলাকারীদের যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন এবং নতুন বিজ্ঞপ্তিতে কোনো ত্রুটি দেখছেন না।
আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “এসএলপিজ আর নট গ্যাম্বেল। এটা বাজে প্র্যাকটিস। এটা বন্ধ করতে হবে। এই ভাবে চলতে পারে না। আপনারা সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করবেন, আবার অন্য কোর্টে যাবেন, এই প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে। মামলা খারিজ করা হচ্ছে।”
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান হলো বলে মনে করা হচ্ছে। একই সাথে, বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার করে বারবার মামলা দায়ের করার প্রবণতাকেও সুপ্রিম কোর্ট কঠোরভাবে সমালোচনা করল। এই রায় রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।