সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে হাতছাড়া হয়েছিল বিসিসিআই-এর বার্ষিক চুক্তি। অনেকেরই ধারণা ছিল, ভারতীয় দলে হয়তো আর দেখা যাবে না তাঁকে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠলেন সেই ব্রাত্য ঈশান কিষান। অভিষেক শর্মা দ্রুত আউট হলেও কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ চলল কেবল ‘কিষান-শো’।
পাক বোলারদের পাড়ার স্তরে নামালেন ঈশান
কলম্বোর পিচে বল ঘুরছিল, স্পিনারদের বিরুদ্ধে রান করা ছিল চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু ঈশানের ব্যাটে আজ যেন ছিল অন্য কোনো মন্ত্র। মাত্র ২৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে পাকিস্তানের ফিল্ডারদের স্রেফ দর্শক বানিয়ে ছাড়লেন তিনি। স্যাম আইয়ুবের হাতে আউট হওয়ার আগে খেললেন ৪০ বলে ৭৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। ১০টি চার এবং ৩টি বিশালাকার ছক্কায় সাজানো তাঁর এই ইনিংস ভারতকে বিপদমুক্ত করে।
অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথে: নেপথ্যে রাহুল দ্রাবিড়?
২০২৩-২৪ সালে ঈশান কিষানের কেরিয়ারে নেমে এসেছিল কালো মেঘ। মানসিক ক্লান্তির কারণে বিরতি নিলেও দুবাইতে পার্টি করা কিংবা রঞ্জি ট্রফি খেলতে অনীহা—বিসিসিআই-এর নেকনজরে ছিলেন না তিনি। ফলস্বরূপ হারান কেন্দ্রীয় চুক্তি।
এমন সময় ‘দ্য ওয়াল’ রাহুল দ্রাবিড় তাঁকে শৃঙ্খলা ফেরানোর পরামর্শ দেন। দ্রাবিড়ের নির্দেশেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে নিজেকে নতুন করে ঘষামাজা করেন ঈশান। ‘বুচি বাবু টুর্নামেন্ট’ থেকে ‘সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি’—ঝাড়খণ্ডের হয়ে তাঁর একের পর এক সেঞ্চুরি নির্বাচকদের বাধ্য করে বিশ্বকাপের দলে ডাক দিতে।
ম্যাচের বর্তমান চিত্র ও একাদশ
প্রথম ওভারে পাক অধিনায়ক সালমান আলি আঘার স্পিন জালে অভিষেক শর্মা (০) ধরা পড়লেও ঈশান এবং সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটে ভারত বড় রানের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
ভারত (Playing XI): অভিষেক শর্মা, ইশান কিষান (WK), তিলক ভার্মা, সূর্যকুমার যাদব (C), হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, রিংকু সিং, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী, জাসপ্রিত বুমরাহ।