টানা তিন দিনের তেজিভাবে হঠাৎই যতি। বুধবার সপ্তাহের মাঝপথে বড়সড় পতনের সাক্ষী থাকল ভারতীয় শেয়ার বাজার। লেনদেন চলাকালীন হুড়মুড়িয়ে পড়ল প্রধান দুই সূচক সেনসেক্স (Sensex) ও নিফটি (Nifty)। এদিন সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে ৭৮,৪৪২-এর স্তরে নেমে যায়, অন্যদিকে নিফটি প্রায় ২০০ পয়েন্ট খুইয়ে ২৪,৩৫৩-এর ঘরে থিতু হয়।
কিন্তু কেন এই রক্তক্ষরণ? কেন বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি কেড়ে নিল আজকের বাজার? এক নজরে দেখে নিন পতনের ৪টি মূল কারণ:
১. আইটি ও ব্যাঙ্ক সেক্টরে ধস
সাম্প্রতিক উত্থানের পর বড় বিনিয়োগকারীরা আইটি এবং ব্যাঙ্কিং সেক্টর থেকে মুনাফা তোলা বা ‘প্রফিট বুকিং’ শুরু করেছেন। বিশেষ করে আইটি সংস্থাগুলির চতুর্থ ত্রৈমাসিকের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস দুর্বল হওয়ায় আইটি সূচক একধাক্কায় ৪% পর্যন্ত পড়ে গিয়েছে। গত তিন দিনের লাভের গুড় এক নিমেষেই শেষ।
২. ট্রাম্পের বার্তার পরেও যুদ্ধ আতঙ্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেও ইরান ও আমেরিকার ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত শান্তি কবে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকায় বিশ্ববাজারের পাশাপাশি ভারতীয় বিনিয়োগকারীরাও আজ সতর্ক ছিলেন।
৩. বিশ্ববাজারের দুর্বল সংকেত
ওয়াল স্ট্রিটে পতনের প্রভাব পড়েছে এশীয় বাজারেও। জাপানের নিক্কেই ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক কিছুটা সামলালেও, শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি ইল্ড বৃদ্ধি ভারতের মতো উন্নয়নশীল বাজারগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করেছে।
৪. জ্বালানি তেলের দামের চোখরাঙানি
অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude) দাম এখনও ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারের ওপরে। ভারতের মতো দেশ, যারা তেলের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল, তাদের অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার ভয়ে বিনিয়োগকারীরা আজ হাত গুটিয়ে নিয়েছিলেন।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনকে এখনই বড় ধস বলা ঠিক হবে না। একে বাজারের একটি স্বাভাবিক ‘কনসোলিডেশন’ বা সমন্বয় হিসেবে দেখা যেতে পারে। মিড ও স্মলক্যাপ সেক্টরে এখনও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। তবে আগামী দিনে বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই বাজারের পরবর্তী অভিমুখ নির্ধারিত হবে।





