আমরা অনেকেই মনে করি রাগ প্রকাশ করা খারাপ, তাই যাবতীয় ক্ষোভ মনের ভেতরেই চেপে রাখি। ভাবি, এতে হয়তো সম্পর্কের শান্তি বজায় থাকছে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। মনোবিদদের মতে, রাগ প্রকাশ করার চেয়ে তা দীর্ঘ সময় মনের মধ্যে পুষে রাখা শরীরের জন্য কয়েক গুণ বেশি ক্ষতিকর। এই ‘সাইলেন্ট কিলার’ আপনার শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে তিলে তিলে বিষাক্ত করে তুলতে পারে।
জেনে নিন দিনের পর দিন রাগ চেপে রাখলে আপনার শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে:
১. হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি
যখন আপনি রাগ চেপে রাখেন, তখন শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসোল’ ও ‘অ্যাড্রেনালিন’-এর মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হৃদপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রাগ চেপে রাখেন, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
দীর্ঘদিনের জমানো রাগ আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে সামান্য ঋতু পরিবর্তনেই সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে বড় কোনো সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
৩. হজমের সমস্যা ও আলসার
মস্তিস্ক এবং পাকস্থলী একে অপরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। মনের ভেতরে ক্ষোভ থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিপাক প্রক্রিয়ায়। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা এবং এমনকি পাকস্থলীতে আলসার পর্যন্ত হতে পারে।
৪. অকাল বার্ধক্য ও অনিদ্রা
চাপা রাগ মানুষের মনের শান্তি কেড়ে নেয়। এর ফলে রাতে সঠিক ঘুম হয় না (Insomnia)। আর ঘুমের অভাবে ত্বকে বলিরেখা পড়ে এবং শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যায়।
৫. সম্পর্কের ওপর কুপ্রভাব
যে রাগ আপনি আজ চেপে রাখছেন, তা কোনো একদিন আগ্নেয়গিরির মতো বিষ্ফোরিত হবে। এতে সম্পর্কের ফাটল আরও গভীর হয়। চাপা রাগ মানুষকে খিটখিটে এবং অসামাজিক করে তোলে।
কীভাবে মুক্তি পাবেন?
মনোবিদদের পরামর্শ হলো, রাগ চেপে না রেখে তা সঠিক উপায়ে প্রকাশ করতে শিখুন।
সরাসরি কথা বলুন: যার ওপর রাগ হয়েছে, তার সাথে শান্তভাবে মনের কথা শেয়ার করুন।
শারীরিক কসরত: ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোন ক্ষরিত হয় যা রাগ কমাতে সাহায্য করে।
লিখে ফেলুন: যদি কাউকে বলতে না পারেন, তবে ডায়েরিতে মনের সব ক্ষোভ লিখে কাগজটি ছিঁড়ে ফেলুন। এতে মন হালকা হয়।
উপসংহার:
রাগ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তাকে বছরের পর বছর লালন করা অস্বাভাবিক। নিজের সুস্থতার খাতিরে ক্ষমা করতে শিখুন অথবা নিজের ক্ষোভকে গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, শান্তি আপনার নিজের হাতে।