বাংলাদেশ থেকে ছড়াচ্ছে ভুয়ো ছবি! অরুণাচল সীমান্ত নিয়ে চাঞ্চল্যকর জল্পনার কড়া জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর দাবি এবং ভুয়ো খবরের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু মহলে জোর দাবি করা হচ্ছিল যে, চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৬০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে। এই সমস্ত জল্পনা ও দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই ধরনের অপতথ্য প্রচার করে একদিকে যেমন দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে, তেমনই সীমান্তে অতন্দ্র পাহারা দেওয়া ভারতীয় সেনা ও ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (ITBP) বীর জওয়ানদের মনোবল ভাঙার কুৎসিত চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ভারতের সীমান্ত বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন যে, অরুণাচল প্রদেশে ভারত ও চীনের মধ্যে একটি দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা আজও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি চিহ্নিত (Demarcated) হয়নি। ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক কারণে সেই দুর্গম অঞ্চলে কোনো স্থায়ী সীমান্ত স্তম্ভ (Border Pillar) বা মাটিতে স্পষ্ট কোনো রেখা টানা সম্ভব হয়নি। ফলে এই ধরনের সীমান্ত সমস্যা মোটেও নতুন কিছু নয়। তিনি স্বীকার করেন যে, সীমান্ত সম্পূর্ণ চিহ্নিত না থাকায় সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামগুলির সাধারণ মানুষের মনে কিছু স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকাটা অত্যন্ত যৌক্তিক। তবে এই বাস্তব পরিস্থিতিকে বিকৃত করে চীন কোনো ভারতীয় গ্রাম দখল করেছে বা ভারতীয় ভূখণ্ডের ৬০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা পুরোপুরি ডাহা মিথ্যা।

রিজিজু অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে অভিযোগ করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট মহল ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ বা অন্যান্য স্থান থেকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং পুরোনো ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে সরকারিভাবে সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মানচিত্রে তাদের প্রচলিত নামে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের ঠিক পরেই এই ধরনের পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। অতীতে দেশের সুরক্ষায় যে সমস্ত ভুল সিদ্ধান্ত বা দুর্বলতা ছিল, বর্তমান সরকার তার আর কোনো পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায় না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ভারত-চীন সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ফায়দা তোলার জন্য কোনো অবাস্তব বা মিথ্যা দাবি করা অত্যন্ত অপরাধমূলক ও অনুচিত। স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার নিরাপত্তাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষা করতে ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানান যে, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে সীমান্তে ভারতীয় নিরাপত্তা পরিকাঠামো বহুগুণ শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি, সেনাবাহিনী ও আইটিবিপির জওয়ানরা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চলগুলিতে নিয়মিত টহলদারি জোরদার করেছেন। দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাধারণ মানুষকে এই ধরনের ভুয়ো প্রচার ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।