শত্রু ড্রোন ও মিসাইল এখন স্রেফ ইতিহাস! প্রতিরক্ষায় বড় চাল মোদী সরকারের, সবুজ সংকেত ডিপিবি-র

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এবং মিসাইল হামলার দাপট বেড়েই চলেছে। ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্য— সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘এয়ার ডিফেন্স’ ছাড়া দেশ সুরক্ষিত রাখা অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ড (DPB) মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা MRSAM (Medium Range Surface-to-Air Missile) ব্যবস্থার দুটি নতুন রেজিমেন্ট কেনার অনুমোদন দিয়েছে।

কেন এই এমআরএসএএম (MRSAM) এত বিশেষ? প্রতিরক্ষা সচিবের সভাপতিত্বে হওয়া বৈঠকে এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই সিস্টেমের ক্ষমতা সম্পর্কে যা জানা জরুরি:

  • লক্ষ্যভেদে নিখুঁত: ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে থাকা শত্রু যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোনকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে পারে এটি।

  • অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: এতে রয়েছে হাই-টেক রাডার এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম, যা একই সাথে একাধিক আক্রমণ মোকাবিলা করতে সক্ষম।

  • যৌথ প্রয়াস: এটি ভারতের DRDO এবং ইজরায়েলের IAI যৌথভাবে তৈরি করেছে।

‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও প্রতিরক্ষা: এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি ভারতে তৈরি করছে ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL) এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)। ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযান আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

সেনার শক্তিবৃদ্ধি: নতুন এই দুটি রেজিমেন্ট ভারতীয় সেনার হাতে এলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকা এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে ড্রোনের মাধ্যমে হওয়া অতর্কিত হামলা রুখতে এটি হবে সেনাবাহিনীর অন্যতম সেরা ‘বর্ম’।

ভারত যেভাবে ধাপে ধাপে নিজের আকাশসীমাকে সুরক্ষিত করছে, তাতে ভবিষ্যতে কোনো শত্রু দেশের পক্ষে ভারতের আকাশপথে অনুপ্রবেশ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy