গাজিয়াবাদের ভারত সিটি টাউনশিপের ন তলা থেকে তিন বোনের পরপর ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। ঘটনার পর থেকে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনছেন মৃত কিশোরীদের বাবা। নিশীকা (১৬), প্রাচী (১৪) এবং পাখি (১২)—তিন বোনের এই মর্মান্তিক পরিণতির পিছনে কাজ করেছে কোরিয়ান গেম এবং সেই সংস্কৃতির প্রতি এক চরম আসক্তি।
তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা ওই ফ্ল্যাট থেকে আট পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছেন। সেখানে কিশোরীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কোরিয়ান সংস্কৃতি এবং তাঁদের প্রিয় অনলাইম গেমের প্রতি তাঁদের অগাধ ভালোবাসা ছিল। কিন্তু বাবা-মা ক্রমাগত তাঁদের এই জগত থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন, যা তাঁরা মেনে নিতে পারেননি। এমনকি সমাজমাধ্যমে কোরিয়ান নাম ব্যবহার করে তাঁদের একাধিক জনপ্রিয় অ্যাকাউন্টও ছিল। মৃত্যুর দিনও তারা রাত ২টো পর্যন্ত সেই গেম খেলেছিল বলে জানিয়েছেন তাঁদের বাবা।
পুলিশ জানতে পেরেছে, এই তিন বোন নিজেদের আসল নাম বদলে রেখেছিল মারিয়া, আলিঁজা এবং সিন্ডি। তাঁদের জীবনযাপনের ধরন থেকে শুরু করে কথাবার্তা—সবকিছুতেই কোরিয়ান সংস্কৃতির গভীর প্রভাব ছিল। পরিবারের দাবি, এই কাল্পনিক জগতের নেশাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে। পুলিশ বর্তমানে তাঁদের মোবাইল ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল খতিয়ে দেখছে, যাতে এই ‘কে-কালচার’-এর আড়ালে অন্য কোনও মরণফাঁদ লুকিয়ে ছিল কি না তা বোঝা যায়।