সবুজ ফাইল কাণ্ডে মমতার গ্রেফতারি নয় কেন? দিল্লিকে বিঁধে বিস্ফোরক তথাগত, বঙ্গ বিজেপিতে তুমুল তোলপাড়!

আইপ্যাক (I-PAC) দফতরে ইডি হানা এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিত হয়ে ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন একটাই শব্দ ঘোরাফেরা করছে— ‘সেটিং’। আর এই ‘সেটিং’ তত্ত্ব নিয়েই এবার দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন মেঘালয় ও ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়।

দিল্লিকে তথাগতর ‘ট্রিপল’ হুঙ্কার

শনিবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তথাগত রায় লেখেন, “কেন্দ্রীয় স্তরে বিজেপিকে অবশ্যই, অবশ্যই, অবশ্যই এমন কিছু দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ধারণা ভেঙে দেওয়া যায় যে বিজেপি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কোনও ‘সেটিং’ বা গোপন বোঝাপড়া রয়েছে।” তাঁর মতে, ইডি-র কাজে সরাসরি বাধা দেওয়ার পরও মমতার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

কী ঘটেছিল আইপ্যাক দফতরে?

গত ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে সল্টলেক ও লাউডন স্ট্রিটের আইপ্যাক দফতরে হানা দেয় ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, কয়লা পাচারের টাকা পৌঁছেছে এই ভোটকুশলী সংস্থায়। তল্লাশি চলাকালীন আচমকাই সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, ইডি নির্বাচনের গোপন কৌশল ও ডিজিটাল ডেটা চুরি করতে এসেছে। এরপরই তাঁর হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ভাইরাল হয়, যা নিয়ে ইডি হাইকোর্টে নালিশ জানিয়েছে।

কেন উঠছে ‘সেটিং’ প্রশ্ন?

তথাগত রায়ের এই পোস্ট বঙ্গ বিজেপির অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অতীতে ২০১৯ সালে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানা রুখতে মমতার ধর্নায় বসা কিংবা সারদা-নারদা মামলার গতিপ্রকৃতি দেখে বারবার ‘সেটিং’-এর অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। এবারও মমতার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নীরবতা সেই জল্পনাকেই উসকে দিয়েছে।

মমতা ও বিজেপির অবস্থান

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ মিছিল করে দাবি করেছেন, “আমি কোনও ভুল করিনি, দলের ডেটা চুরি রুখেছি মাত্র।” অন্যদিকে, বঙ্গ বিজেপি নেতারা মমতার গ্রেফতারির দাবি তুললেও দিল্লি থেকে কোনও কড়া বার্তা না আসায় অস্বস্তিতে নিচুতলার কর্মীরা। ঠিক এই জায়গাটিকেই আঘাত করেছেন তথাগত রায়।