আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) ঐতিহাসিক ১৮ দিন কাটিয়ে এবং ২২.৫ ঘণ্টার দীর্ঘ ফিরতি যাত্রা শেষ করে মঙ্গলবার নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন ভারতের নভোচর শুভাংশু শুক্লা এবং অ্যাক্সিওম-৪ মিশনে থাকা আরও তিন সহকর্মী। তাঁদের বহনকারী স্পেস-এক্স ড্রাগন মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে প্রশান্ত মহাসাগরে সফলভাবে অবতরণ করে। মহাকাশ থেকে ফিরে আসা শুভাংশু শুক্লার প্রথম হাসিমুখের ছবি ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে, যা দেশজুড়ে আনন্দের ঢেউ তুলেছে।
মাধ্যাকর্ষণ অনুভব করে হাসি মুখে শুভাংশু
মিশন পাইলট শুভাংশু শুক্লা, তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে ড্রাগন মহাকাশযান থেকে বেরিয়ে এসে ১৮ দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ অনুভব করেন। প্রথমে কমান্ডার পেগি হুইটসন মহাকাশযান থেকে বেরিয়ে আসেন, এরপরই হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন ভারতের গর্ব, মিশন পাইলট শুভাংশু শুক্লা। এই মুহূর্তটি শুধু তাঁর পরিবারের জন্যই নয়, সমগ্র দেশের জন্য ছিল এক অত্যন্ত গর্বের এবং আবেগঘন মুহূর্ত।
পরিবারের বাঁধভাঙা আনন্দ ও স্বস্তি
ছেলের সফল প্রত্যাবর্তনে শুভাংশুর মা আশা শুক্লা আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমার ছেলে একটি খুব বড় মিশন সম্পন্ন করে ফিরে এসেছে। চোখে জল আসা স্বাভাবিক। সে কীভাবে গেল এবং কীভাবে ফিরে এল, তা দেখা অনেক বড় বিষয়। ছেলের ফিরে আসায় আমি খুব খুশি।” মা জানান, মনে মনে তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলেন যেন অবতরণ নিরাপদ হয়। এখন সমস্ত ভয় কেটে গেছে এবং তিনি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিন্ত।
শুভাংশুর বাবা শম্ভু দয়াল শুক্লাও তাঁর আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “যারা আমাদের ছেলেকে আশীর্বাদ করেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।” মিশনের সাফল্যের পর সারা দেশে উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে। শুভাংশুর ফিরে আসার পর তাঁর পরিবার কেক কেটে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপন করে।
শুভাংশুর দিদি শুচি মিশ্র বলেন, “সে ফিরে এসেছে। এটা গোটা দেশের জন্য খুবই গর্বের মুহূর্ত… আমরা খুবই উত্তেজিত।”
প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই বিশেষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে X-এ লিখেছেন যে তিনি গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, শুভাংশু ভারতের প্রথম মহাকাশচারী হিসেবে ISS পরিদর্শন করে কোটি কোটি স্বপ্নকে অনুপ্রাণিত করেছেন। অ্যাক্সিওম-৪ মিশনের অধীনে আরও তিনজন মহাকাশচারীর সঙ্গে ২২.৫ ঘণ্টার ফিরতি যাত্রা শেষে শুভাংশু শুক্লা ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে সফলভাবে অবতরণ করেন।
এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করল। মহাকাশে ভারতের এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও গবেষণায় উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।