পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটতেই এবার বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে সামনে এলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা প্রাক্তন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর তৃণমূলের পরাজয় নিয়ে বলতে গিয়ে মনোজ সরাসরি দাবি করেছেন, শাসকদলের বিধায়ক পদের টিকিটের জন্য তাঁর কাছে ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। তিনি সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেছিলেন বলেই তাঁকে ব্রাত্য থাকতে হয়েছে।
মনোজ তিওয়ারির দাবি, তৃণমূলের এই বিপর্যয়ে তিনি একেবারেই অবাক নন। তিনি সাফ জানান, যখন একটি দল আগাগোড়া দুর্নীতিতে ডুবে থাকে এবং উন্নয়নের কাজে কোনো নজর দেয় না, তখন এই ফল হওয়াই স্বাভাবিক ছিল। প্রাক্তন এই মন্ত্রীর অভিযোগ, মমতার দলে শুধুমাত্র তারাই টিকিট পেতেন যারা মোটা টাকা দিতে পারতেন। তিনি দাবি করেন, গত নির্বাচনে অন্তত ৭০-৭২ জন প্রার্থী প্রায় ৫ কোটি টাকা করে দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন। মনোজ প্রশ্ন তোলেন, “যারা টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন, তাদের মধ্যে কজন জিততে পেরেছেন?”
রাজনীতিতে আসা নিয়ে মনোজ স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, প্রথম দিকে তাঁর কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়ার প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ সে সময় তিনি আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে খেলছিলেন এবং রঞ্জি ট্রফি নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি শিবপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি হন। জেতার পর তাঁকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী করা হলেও কাজের ক্ষেত্রে তিনি পদে পদে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবি করেন।
হাওড়ার উন্নয়নের প্রসঙ্গেও সরব হন মনোজ। তাঁর অভিযোগ, শিবপুরের ড্রেনেজ এবং নিকাশি ব্যবস্থার মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর কথা তিনি বারবার মুখ্যমন্ত্রীকে জানালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে কান দেননি। মনোজ দাবি করেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য তিনি নিজের পকেট থেকেও টাকা খরচ করেছেন। পাশাপাশি বিল্ডারদের থেকে তোলাবাজি করার অভিযোগ হেসেই উড়িয়ে দেন তিনি। মনোজ বলেন, “ক্রিকেট খেলে আমি যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করেছি, দুর্নীতির টাকা আমার প্রয়োজন নেই।” ১৫ বছর পর তৃণমূলের ক্ষমতা হারানোর মূলে যে এই চরম দুর্নীতি এবং নেপোটিজম কাজ করেছে, তা মনোজের এই বয়ানে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।





