বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে স্ট্রোক একটি নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা সময় মনে করা হতো এটি কেবল বয়স্কদের রোগ, কিন্তু এখন অল্প বয়সীদের মধ্যেও স্ট্রোকের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলেই স্ট্রোকের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে সঠিক সচেতনতা এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে এই ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।
স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে যে বিশেষ নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি:
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা: স্ট্রোকের প্রধান কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure)। নিয়মিত রক্তচাপ মেপে দেখুন এবং লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিন। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমে যায়।
স্বাস্থ্যকর ডায়েট অনুসরণ: অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং ফাস্ট ফুড রক্তনালীতে কোলেস্টেরল জমিয়ে দেয়। এর বদলে পাতে রাখুন প্রচুর সবুজ শাকসবজি, ফলমূল এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ।
ওজন ও ব্যায়ামের সমন্বয়: অতিরিক্ত ওজন স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা শারীরিক কসরত শরীরকে সচল রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে।
ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন: তামাক এবং অ্যালকোহল রক্তনালীর দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। স্ট্রোক থেকে বাঁচতে এই নেশাজাতীয় দ্রব্য আজই ত্যাগ করুন।
ডায়াবেটিস ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ শর্করা রক্তনালীর ক্ষতি করে, তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং ইয়োগার মাধ্যমে মানসিক চাপ মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।
জরুরি সংকেত (FAST): যদি হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত অবশ হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রথম ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা এক ঘণ্টা অত্যন্ত মূল্যবান।





