সন্তানের পরীক্ষার ফল আশানুরূপ না হলে আমরা অনেক সময় তাদের বকুনি দিই বা পড়ার সময় বাড়িয়ে দিই। কিন্তু সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। বিজ্ঞানীদের দাবি, কোনো শিশুর পড়াশোনায় উন্নতির পিছনে স্কুলের চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখে তার ‘হোম এনভায়রনমেন্ট’ বা বাড়ির পরিবেশ। অনেক সময় মা-বাবার অজান্তেই তৈরি হওয়া কিছু পরিস্থিতি সন্তানের মেধা ও মনোযোগকে তছনছ করে দেয়।
গবেষণায় উঠে আসা সেই অবাক করা কারণগুলো দেখে নিন:
১. মা-বাবার সম্পর্কের টানাপোড়েন
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বাড়িতে মা-বাবার মধ্যে অশান্তি বা কলহ লেগেই থাকে, সেই বাড়ির শিশুদের মস্তিষ্কে ‘কর্টিসোল’ (মানসিক চাপের হরমোন) বেশি নির্গত হয়। ফলে তাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা (Focusing power) কমে যায় এবং তারা পরীক্ষায় খারাপ ফল করতে শুরু করে।
২. অতিরিক্ত শাসন বনাম অবহেলা
খুব কড়া শাসনে বড় হওয়া শিশুরা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগে, যা পরীক্ষার খাতায় প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, সন্তানকে একদম সময় না দেওয়া বা তাদের সাথে গুণগত সময় (Quality Time) না কাটানোও রেজাল্ট খারাপের অন্যতম কারণ। শিশুর বিকাশের জন্য বাড়িতে সুস্থ আলোচনার পরিবেশ থাকা জরুরি।
৩. গ্যাজেট এবং স্ক্রিন টাইম
বাড়িতে সারাদিন টিভি চলা বা অভিভাবকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের আসক্তি শিশুদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে, পড়ার সময় মা-বাবাকে স্মার্টফোনে ব্যস্ত দেখলে শিশুদের মধ্যে অবাধ্য হওয়ার এবং পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
৪. পড়ার নির্দিষ্ট জায়গার অভাব
ঘরের যে কোনো জায়গায় বসে পড়ার অভ্যাস মনঃসংযোগ নষ্ট করে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বাড়িতে শান্ত, নিরিবিলি এবং নির্দিষ্ট একটি পড়ার জায়গা থাকলে শিশুর রিটেনশন পাওয়ার বা মনে রাখার ক্ষমতা প্রায় ২৫% বেড়ে যায়।
৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টির অভাব
বাড়ির পরিবেশে যদি অনিয়ম থাকে, যেমন— দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া বা অনেক রাত পর্যন্ত সবাই জেগে থাকা, তবে শিশুর ঘুমের চক্র ব্যাহত হয়। গভীর ঘুম না হলে মস্তিষ্ক তথ্য সঞ্চয় করতে পারে না, যার ফল হয় রেজাল্ট খারাপ।
উপসংহার:
আপনার সন্তান যদি পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে, তবে তাকে বকাঝকা করার আগে নিজের বাড়ির পরিবেশের দিকে নজর দিন। একটু সচেতনতা আর ভালোবাসা বদলে দিতে পারে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ।