আমরা অনেকেই মনে করি ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ বুঝি কেবল বয়স্কদেরই হয়। তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ছোটরাও ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হতে পারে, যাকে চাইল্ডহুড ডিপ্রেশন বলা হয়। এই বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় আমরা শিশুদের আচরণের পরিবর্তনগুলি এড়িয়ে যাই, যার ফলস্বরূপ ভবিষ্যতে তাদের বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
তাই বড়দের ডিপ্রেশন নিয়ে আমরা যেমন সচেতন, তেমনই ছোটদের ডিপ্রেশন সম্পর্কেও কিছু তথ্য জেনে নেওয়া জরুরি। শিশুদের মধ্যে যদি কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখতে পান, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ নিন।
ছোটদের ডিপ্রেশনের বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে। আসুন, সেইগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক:
পেট বা মাথার যন্ত্রণা: আপনার সন্তান যদি প্রায়শই পেটব্যথা বা মাথা ব্যথার অভিযোগ করে এবং পরীক্ষায় যদি তেমন কোনো শারীরিক সমস্যা ধরা না পড়ে, তাহলে এটি তার মধ্যে ডিপ্রেশন কাজ করার লক্ষণ হতে পারে।
সামাজিক দূরত্ব: আপনার বাচ্চা যদি অন্যদের সঙ্গে মিশতে না চায় বা মিশতে না পারে, তাহলে বিষয়টি নজরে রাখুন। সমবয়সী বন্ধু না থাকা বা হাতেগোনা বন্ধু থাকলেও সচেতন থাকুন। এটি ডিপ্রেশনের একটি লক্ষণ হতে পারে।
হজমের সমস্যা: ছোটবেলা থেকেই যদি আপনার বাচ্চার হজমের সমস্যা থাকে এবং সে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে, তাহলে এটিও ডিপ্রেশনের কারণে হতে পারে।
পড়াশোনায় অনীহা: আপনার বাচ্চা যদি একদমই পড়াশোনা করতে না চায় বা পরীক্ষার ফল খারাপ করে, তাহলে এর পিছনে ডিপ্রেশন থাকতে পারে।
অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা: আপনার সন্তান যদি অতিরিক্ত সংবেদনশীল বা আবেগপ্রবণ হয়, তাহলে এটিও ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।
গুমোট ভাব: আপনার বাচ্চা যদি আপন মনে গুমরে মরে এবং কারো কাছে কিছু খুলে বলতে না পারে, তাহলে এটি ডিপ্রেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
অস্বাভাবিক রাগ: বাচ্চার মধ্যে যদি মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক রাগ লক্ষ্য করা যায়, তাহলে এটিও ডিপ্রেশনের কারণে হতে পারে।
অন্যমনস্কতা: আপনার বাচ্চা যদি সবসময় অন্যমনস্ক থাকে এবং আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, তাহলে এটি ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।
তবে মনে রাখা ভালো, এই লক্ষণগুলির মধ্যে কেবল একটি দেখা গেলেই আপনার সন্তান ডিপ্রেশনে ভুগছে বা চাইল্ডহুড ডিপ্রেশনের রোগী হয়ে গিয়েছে, এমনটা নাও হতে পারে। যদি এই লক্ষণগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি একসঙ্গে দেখা যায়, তাহলে সম্ভবত সে ডিপ্রেশনে ভুগছে।
যদি আপনার সন্দেহ হয়, তাহলে অবশ্যই একজন মনোবিদের কাছে যান। তার কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধেরও দরকার হতে পারে। এই বিষয়টিকে উপেক্ষা করলে আপনার সন্তানের ছোটবেলা যেমন সমস্যাদীর্ণ হবে, তেমনই বড়বেলাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই সময় থাকতে সচেতন হোন এবং আপনার সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন।





