স্কুলের ব্যাগ, কোচিংয়ের চাপ আর প্রতিযোগিতার বাজারে বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা শৈশব হারাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এখন এক নীরব মহামারী। অনেক সময় আমরা শিশুর জেদ, চুপচাপ হয়ে যাওয়া বা খিটখিটে মেজাজকে স্রেফ ‘দুষ্টুমি’ বলে এড়িয়ে যাই। কিন্তু এগুলোই হতে পারে গভীর কোনো মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত।
কীভাবে বুঝবেন আপনার শিশু মানসিক চাপে আছে?
আচরণে পরিবর্তন: হঠাৎ খুব বেশি কথা বলা বা একদম চুপ হয়ে যাওয়া।
খাওয়ায় অনিচ্ছা: খিদে কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত পরিমাণে জাঙ্ক ফুড খাওয়া।
ঘুমের সমস্যা: রাতে বারবার ভয় পাওয়া বা ঘুম না আসা।
একা থাকার প্রবণতা: বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অনীহা।
শিশুর মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ৫টি কৌশল:
১. কোয়ালিটি টাইম (Quality Time): সারাদিনে অন্তত ৩০ মিনিট এমন রাখুন যেখানে কোনো ফোন বা গ্যাজেট থাকবে না। শুধুমাত্র সন্তানের সাথে গল্প করুন। তাকে বুঝতে দিন যে সে আপনার কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।
২. ভুল করতে দিন: “তোমাকে ফার্স্ট হতেই হবে”—এই চাপ শিশুর সৃজনশীলতা মেরে ফেলে। তাকে শেখান যে হেরে যাওয়া বা ভুল করা অপরাধ নয়, বরং শেখার একটি অংশ।
৩. মন দিয়ে শোনা (Active Listening): শিশু যখন কিছু বলতে চায়, তখন কাজ সরিয়ে রেখে তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা শুনুন। সে ছোট বলে তার সমস্যাগুলো তুচ্ছ করে দেবেন না।
৪. আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখানো: শিশুকে রাগ, দুঃখ বা ভয় লুকিয়ে রাখতে বলবেন না। বরং এই আবেগগুলো কীভাবে সামলাতে হয়, তা তাকে ধৈর্য ধরে শেখান।
৫. স্ক্রিন টাইম কমানো: অতিরিক্ত মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহারের ফলে শিশুদের মধ্যে ধৈর্য কমে যাচ্ছে এবং একাকীত্ব বাড়ছে। তাকে মাঠের খেলা বা কোনো শখের কাজে (যেমন আঁকা বা গান) উৎসাহিত করুন।
অভিভাবকদের জন্য বিশেষ বার্তা:
মনে রাখবেন, আপনি আপনার সন্তানের আদর্শ। আপনি যদি সবসময় চাপের মধ্যে থাকেন বা চিৎকার করেন, শিশুও সেটাই শিখবে। তাই বাড়ির পরিবেশ শান্ত ও ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করুন।