রোজ সকালে কয়েকটা আখরোট কি পাল্টে দিতে পারে আপনার ভাগ্য? ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ!

দেখতে হুবহু মানুষের মস্তিষ্কের মতো, আর কাজও করে ঠিক তেমিন! প্রাকৃতিকভাবে আখরোট বা ওয়ালনাটকে বলা হয় ‘ব্রেন ফুড’। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রোজ একমুঠো আখরোট খেলে আপনার মস্তিষ্কের ভেতরে ঠিক কী কী পরিবর্তন ঘটে? আধুনিক বিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদরা এই নিয়ে কী বলছেন?

মস্তিষ্কের ওপর আখরোটের প্রভাব:

স্মৃতিশক্তি ও ক্ষুরধার বুদ্ধি: আখরোটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং পলিফেনল। এই উপাদানগুলো মস্তিষ্কের কোষের প্রদাহ কমায় এবং তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আখরোট খেলে স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

অকাল বার্ধক্য রোধ: আলঝেইমার্স বা স্মৃতিভ্রংশের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে আখরোটের জুড়ি নেই। এতে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে, ফলে বার্ধক্যেও ব্রেন থাকে সচল।

মুড বা মেজাজ নিয়ন্ত্রণ: আখরোটে থাকা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড শুধু হার্ট নয়, মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এটি নিয়মিত খেলে উদ্বেগ বা স্ট্রেস কমে এবং মন ভালো থাকে।

গভীর ঘুম নিশ্চিত করা: আখরোটে ‘মেলাটোনিন’ নামক হরমোন থাকে যা আপনার ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষ্ক শান্ত থাকলে এবং ঘুম ভালো হলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেনের কার্যকারিতা বেড়ে যায়।

কীভাবে এবং কতটা খাবেন? পুষ্টিবিদদের মতে, আখরোটের পূর্ণ উপকার পেতে হলে তা ভিজিয়ে খাওয়া সবচাইতে ভালো। রাতে ৩-৪টি আখরোট জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেলে এর পুষ্টিগুণ সরাসরি রক্তে মিশতে পারে। তবে মনে রাখবেন, আখরোট উচ্চ ক্যালরিযুক্ত, তাই দিনে ৫-৬টির বেশি না খাওয়াই ভালো।

সতর্কতা: যাদের বাদামে অ্যালার্জি আছে, তাদের আখরোট খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া ছোট বাচ্চাদের গলায় আটকে যাওয়ার ভয় থাকে, তাই গুঁড়ো করে বা অন্য খাবারের সাথে মিশিয়ে দেওয়া নিরাপদ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy