আপনার দেওয়া এক ইউনিট রক্ত বাঁচাতে পারে তিনটি প্রাণ। কিন্তু রক্ত দেওয়ার পর দাতার নিজের শরীরের ওপর দিয়ে কী যায়? রক্তদানের ঠিক পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা শরীর একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এই সময় আপনার শরীরে ঠিক কী কী ঘটে এবং কী ধরণের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
রক্তদানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শরীরে যা ঘটে:
তরল পদার্থের ভারসাম্য: রক্তদানের পরপরই শরীরের প্লাজমা বা তরল অংশ কমে যায়। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সঠিক পরিমাণে জল পান করলে শরীর মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সেই প্লাজমার ঘাটতি পূরণ করে ফেলে।
রক্তকণিকার পুনর্নির্মাণ: রক্ত দেওয়ার সাথে সাথেই আপনার অস্থিমজ্জা (Bone Marrow) নতুন রক্তকণিকা তৈরির সংকেত পায়। লোহিত রক্তকণিকা পুরোপুরি তৈরি হতে কয়েক সপ্তাহ লাগলেও, রক্তদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শরীর তার ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়।
রক্তচাপের সামঞ্জস্য: রক্ত দেওয়ার পর সাময়িকভাবে রক্তচাপ কিছুটা কমতে পারে, যা শরীর নিজেই দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করে নেয়। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে মাথা ঘোরানো বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।
এই ২৪ ঘণ্টায় যা করবেন এবং যা করবেন না:
১. প্রচুর জল পান করুন: শরীর থেকে যে তরল বেরিয়ে গেছে তা পূরণ করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জল এবং ফলের রস পান করুন। ২. ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন: রক্তদানের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা জিমে যাওয়া, ভারী ওজন তোলা বা কায়িক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুন। এতে ইনজেকশন দেওয়া জায়গায় কালশিটে বা মাথা ঘোরানোর ঝুঁকি কমে। ৩. ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন: রক্তদানের পর অন্তত ৩ ঘণ্টা ধূমপান এবং ২৪ ঘণ্টা মদ্যপান করবেন না। এটি শরীরকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে বাধা দেয়। ৪. খাবার দাবার: আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন—পালং শাক, ডিম, মাছ বা ডাল খাদ্যতালিকায় রাখুন। এটি নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করবে।
সতর্কতা: যদি রক্তদানের কয়েক ঘণ্টা পরও আপনার মাথা ঘোরে, চোখে ঝাপসা দেখেন বা ইনজেকশনের জায়গায় অস্বাভাবিক ফুলে যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, আপনার একটু সচেতনতা আপনার মহানুভবতাকে সার্থক করে তুলবে।