চৈত্র-বৈশাখের রোদে শরীর শুকিয়ে কাঠ, আর তার সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেটের রোগ। গরমে আমাদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে সামান্য অনিয়মেই পেট খারাপ বা হজমের সমস্যা দেখা দেয়। তবে ওষুধের দোকানে দৌড়ানোর আগে ভরসা রাখতে পারেন ঠাকুরমার আমলের একটি বিশেষ ঘরোয়া রেসিপিতে, যা সেকেন্ডের মধ্যে শরীরকে ঠান্ডা করবে এবং পেটের সমস্যা দূর করবে।
সেই জাদুকরী রেসিপি: ‘মশলা ঘোল’ বা প্রোবায়োটিক ছাঁচ
দইয়ের ঘোল বা ছাঁচ কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, এটি অন্ত্রের জন্য অমৃত সমান। দেখে নিন এটি তৈরির সঠিক পদ্ধতি।
যা যা লাগবে:
টাটকা টক দই (১ কাপ)
ঠান্ডা জল (২ কাপ)
বিট নুন (সামান্য)
ভাজা জিরে গুঁড়ো (আধা চামচ)
পুদিনা পাতা কুচি (স্বাদের জন্য)
সামান্য আদা বাটা বা রস
প্রস্তুত প্রণালী:
একটি পাত্রে দই নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। তাতে জল এবং আদা বাটা মিশিয়ে আবার নাড়ুন। এবার ভাজা জিরে গুঁড়ো ও বিট নুন দিয়ে দিন। গ্লাসে ঢেলে ওপরে পুদিনা পাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। ব্যস, তৈরি আপনার ন্যাচারাল এনার্জি ড্রিংক!
কেন এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে?
প্রোবায়োটিক: দইয়ের ভালো ব্যাকটেরিয়া পেটের খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে হজমশক্তি বাড়ায়।
জিরে ও আদা: জিরে পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে এবং আদা অন্ত্রের প্রদাহ কমায়।
পুদিনা: পুদিনা পাতা পাকস্থলীকে ঠান্ডা রাখে এবং পেটের মোচড় বা ব্যথা দূর করে।
জলশূন্যতা রোধ: এটি শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে, ফলে ডিহাইড্রেশন বা হিট-স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
গরমকালে পেট ভালো রাখার ৩টি গোল্ডেন টিপস:
১. কাঁচা পেঁপের রান্না: দুপুরে ভাতের পাতে কাঁচা পেঁপের ঝোল বা ডাল রাখুন। এতে থাকা ‘প্যাপাইন’ এনজাইম হজম সহজ করে।
২. অল্প আহার: গরমে একবারে অনেক বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খান।
৩. ডাবের জল: সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন ডাবের জল খান, এটি পেটের এসিডিটি কমাতে সেরা।
সম্পাদকের টিপস: ফ্রিজের একদম বরফ ঠান্ডা জল সরাসরি খাবেন না। এর বদলে মাটির কলসির জল বা সাধারণ তাপমাত্রার জল খাওয়ার অভ্যাস করুন।