“আলি টু বেড অ্যান্ড আলি টু রাইজ”—ছোটবেলার এই নীতিটি আমরা অনেকেই ভুলে গেছি। ছুটির দিন হোক বা কর্মব্যস্ত জীবন, অনেকেই সুযোগ পেলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটান। কিন্তু আপনি কি জানেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুম আপনার শরীরের জন্য ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর হতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, দিনে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুম ডেকে আনতে পারে অপূরণীয় শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় অতিরিক্ত ঘুমের সাথে যে মারাত্মক রোগগুলোর সংযোগ পাওয়া গেছে, তা রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো:
১. টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে শরীরের ইনসুলিন তৈরির ক্ষমতা ব্যাহত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। এটি সরাসরি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণহীন করে তোলে।
২. বন্ধ্যাত্বের আশঙ্কা (Infertility)
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘুম শরীরের হরমোন নিঃসরণে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে সারকাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রজনন হরমোনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে।
৩. হৃদরোগ ও স্থূলতা
অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়, যা দ্রুত ওজন বাড়াতে বা স্থূলতা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্রের ওপর। যারা বেশি ঘুমান, তাদের মধ্যে ধমনীতে ব্লকেজ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
৪. বিষণ্নতা ও মানসিক ক্লান্তি
বেশি ঘুমালে মন ফুরফুরে হওয়ার বদলে উল্টো ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা বাড়তে পারে। একে ‘স্লিপিং সিকনেস’ বলা হয়। দীর্ঘক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকার ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং সারাদিন মেজাজ খিটখিটে থাকে।
৫. দীর্ঘস্থায়ী পিঠ ও মাথা ব্যথা
অতিরিক্ত সময় শুয়ে থাকার ফলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের পেশিতে চাপ পড়ে, যা দীর্ঘস্থায়ী পিঠ ব্যথার কারণ হয়। এছাড়া বেশিক্ষণ ঘুমালে মস্তিষ্কের সেরোটোনিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হতে পারে।
কতটুকু ঘুম আদর্শ?
ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার ঘুমই যথেষ্ট। এর চেয়ে কম বা বেশি—উভয়ই শরীরের জন্য ক্ষতিকর।