সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আমরা যে টুথব্রাশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করি, সেটি যদি বাথরুমের খোলা বাতাসে থাকে, তবে তা পরিষ্কারের বদলে আপনাকে আরও অসুস্থ করে তুলতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাথরুমের আর্দ্র পরিবেশ এবং টয়লেটের ঘনিষ্ঠতা টুথব্রাশকে একটি ‘ব্যাকটেরিয়া বোম্ব’-এ পরিণত করে।
কেন এটি ভয়াবহ হতে পারে?
টয়লেট প্লাম (Toilet Plume): গবেষকদের মতে, টয়লেট ফ্ল্যাশ করার সময় সেখান থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলকণা বা অ্যারোসল বাতাসের অনেকটা ওপর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এই কণাগুলোতে থাকে মলের ক্ষতিকর জীবাণু (যেমন—E. coli)। যদি আপনার টুথব্রাশটি বাথরুমের ভেতরে খোলা অবস্থায় থাকে, তবে সেই জীবাণু সরাসরি ব্রাশের রোঁয়ায় গিয়ে জমা হয়।
আর্দ্রতা ও ছত্রাক: বাথরুম সাধারণত স্যাঁতসেঁতে থাকে। রোঁয়ার মাঝে জমে থাকা জল ঠিকমতো শুকায় না বলে সেখানে খুব দ্রুত ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করে। এর ফলে মাড়িতে ইনফেকশন বা মুখের ঘা হতে পারে।
ক্রস ইনফেকশন: অনেক সময় পরিবারের সবার ব্রাশ একসাথে একই হোল্ডারে রাখা হয়। যদি একটি ব্রাশে জীবাণু থাকে, তবে তা সহজেই অন্য ব্রাশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
সুরক্ষিত থাকার ৫টি সহজ নিয়ম:
১. ফ্ল্যাশ করার আগে ঢাকনা বন্ধ: টয়লেট ফ্ল্যাশ করার আগে অবশ্যই কমোডের ঢাকনা বন্ধ করুন। এটি জীবাণুকে বাতাসে ছড়ানো থেকে আটকাবে।
২. বাথরুমের বাইরে রাখা: সবচেয়ে নিরাপদ হলো ব্রাশ ব্যবহারের পর ভালো করে ধুয়ে বাথরুমের বাইরের কোনো শুকনো জায়গায় রাখা।
৩. আলাদা হোল্ডার ব্যবহার: একটি ব্রাশের সাথে যেন অন্য ব্রাশের স্পর্শ না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৪. ব্রাশ কভার ব্যবহার করুন: ব্রাশ পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার পর একটি ভেন্টিলেটেড (ছিদ্রযুক্ত) কভার দিয়ে ঢেকে রাখুন। মনে রাখবেন, ভিজে ব্রাশ কখনোই কভার দিয়ে ঢেকে রাখবেন না, এতে ব্যাকটেরিয়া আরও বাড়বে।
৫. নিয়মিত ব্রাশ পরিবর্তন: প্রতি ৩ মাস অন্তর অথবা কোনো অসুখ (যেমন—জ্বর বা সর্দি) থেকে সেরে ওঠার পর টুথব্রাশ বদলে ফেলা উচিত।