“একটু-আধটু খেলে কিছু হয় না” কিংবা “পরিমিত মদ্যপান হার্টের জন্য ভালো”—এই কথাগুলো আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। বহু বছর ধরে কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল যে, রেড ওয়াইন বা অল্প পরিমাণে অ্যালকোহল হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে।
পরিমিত মদ্যপান নিয়ে বিজ্ঞানের সর্বশেষ তথ্য যা আপনার জানা জরুরি:
১. ‘সেফ লিমিট’ বা নিরাপদ মাত্রা বলে কিছু নেই
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, স্বাস্থ্যের জন্য অ্যালকোহলের কোনো ‘নিরাপদ মাত্রা’ নেই। অর্থাৎ, আপনি খুব সামান্য পরিমাণে পান করলেও তা শরীরের কোষে প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
২. হার্টের উপকারিতা কি স্রেফ কল্পনা?
এক সময় মনে করা হতো অ্যালকোহল রক্তে ‘গুড কোলেস্টেরল’ বাড়ায়। কিন্তু আধুনিক কার্ডিওলজিস্টদের মতে, হার্টের উপকারের জন্য অ্যালকোহল বেছে নেওয়ার চেয়ে নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাবার খাওয়া অনেক বেশি কার্যকর ও নিরাপদ। অল্প মদ্যপানও অনেকের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ এবং ‘অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন’-এর মতো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
৩. ক্যানসারের ঝুঁকি
অ্যালকোহল একটি সরাসরি ‘কার্সিনোজেন’ বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান। গবেষকরা দেখেছেন যে, পরিমিত মদ্যপানও স্তন ক্যানসার, লিভার ক্যানসার এবং খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও এটি ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে।
৪. লিভারের ওপর প্রভাব
অনেকে ভাবেন শুধু অতিরিক্ত মদ্যপানেই লিভার নষ্ট হয়। কিন্তু নিয়মিত অল্প মদ্যপানও ধীরে ধীরে ‘ফ্যাটি লিভার’ তৈরি করতে পারে, যা পরবর্তীতে লিভার সিরোসিসের দিকে মোড় নেয়।
৫. মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তি
পরিমিত মদ্যপান অনেক সময় অজান্তেই অভ্যাসে পরিণত হয়। স্ট্রেস কমাতে অল্প পান করা থেকে শুরু করে পরবর্তীতে এটি মানসিক অবসাদ এবং আসক্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: যদি আপনি মদ্যপান না করেন, তবে হার্ট ভালো রাখার দোহাই দিয়ে তা শুরু করার কোনো প্রয়োজন নেই। আর যারা নিয়মিত পান করেন, তাদের জন্য পরামর্শ হলো এর পরিমাণ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা বা সম্পূর্ণ বর্জন করা।
উপসংহার: পরিমিত মদ্যপানের তথাকথিত উপকারিতার চেয়ে এর অপকারিতা অনেক বেশি প্রমাণিত। তাই দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্যের জন্য তথাকথিত ‘সোশ্যাল ড্রিঙ্কিং’ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।