আজকের প্রতিযোগিতামূলক যুগে শিশুদের ওপর পড়াশোনার চাপ ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘক্ষণ স্কুলের ক্লাস, টিউশন আর মোবাইল গেমিংয়ের নেশায় অনেক শিশুই পড়াশোনায় সেভাবে মনোযোগ দিতে পারছে না। অনেক অভিভাবকই অভিযোগ করেন, সন্তান বই নিয়ে বসলেও তার মন পড়ে থাকে অন্য কোথাও। এই সমস্যার সমাধানে যোগব্যায়াম কি সত্যিই কার্যকরী হতে পারে? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং প্রাচীন ভারতীয় দর্শন কিন্তু ইতিবাচক ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
মনঃসংযোগ বাড়াতে যোগব্যায়াম কেন কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগব্যায়াম কেবল শরীরের নমনীয়তা বাড়ায় না, এটি মস্তিষ্কের কোশগুলিকে সচল রাখতে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত প্রাণায়াম ও নির্দিষ্ট কিছু আসন শিশুদের মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়, যা তাদের শেখার ক্ষমতা বা ‘লার্নিং অ্যাবিলিটি’ বহু গুণ বাড়িয়ে তোলে।
শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াতে যে ৩টি আসন দারুণ কাজ করে:
বৃক্ষাসন (Tree Pose): এই আসনটি শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি মনের একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। শিশু যদি প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট এই আসনটি করে, তবে তার চঞ্চলতা কমে আসে।
ভ্রমরী প্রাণায়াম (Bee Breathing): পড়তে বসার আগে ৫ বার এই প্রাণায়াম করলে মস্তিষ্ক শান্ত হয় এবং দুশ্চিন্তা দূর হয়। এটি স্মৃতিশক্তি ধারালো করতে অত্যন্ত কার্যকর।
সূর্য নমস্কার: এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যায়াম। এটি শরীরের প্রতিটি পেশিকে সচল রাখার পাশাপাশি শিশুদের অলসতা কাটাতে সাহায্য করে, যার ফলে তারা আরও উদ্যম নিয়ে পড়াশোনায় মন দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, জোর করে পড়তে বসানোর চেয়ে যদি শিশুকে খেলার ছলে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট যোগব্যায়াম করানো যায়, তবে তার মানসিক বিকাশ দ্রুত ঘটে। এর ফলে পড়ার বিষয়বস্তু মনে রাখা তাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়।
উপসংহার:
অবশ্যই, যোগব্যায়াম কোনো জাদুদণ্ড নয় যে রাতারাতি সব বদলে দেবে। তবে নিয়মিত অনুশীলন এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার মাধ্যমে শিশুর পড়াশোনায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই দেরি না করে আজ থেকেই আপনার সন্তানের রুটিনে যোগ করুন সামান্য কিছু ব্যায়াম আর তফাতটা দেখুন নিজেই!





