বর্তমান যুগে শরীর সচেতনতার অঙ্গ হিসেবে অনেক মহিলাই নিয়মিত গোপনাঙ্গের লোম বা পিউবিক হেয়ার পরিষ্কার করেন। কিন্তু এই অভ্যাস কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা এবং স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞদের (Gynaecologist) মতামত কিন্তু অন্য কথা বলছে। চিকিৎসক ডাঃ অঞ্জলি কুমারের মতে, পিউবিক হেয়ার সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং শরীরের সুরক্ষার জন্য তৈরি।
বিজ্ঞান ও গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্য মেডিক্যাল জার্নাল JAMA Dermatology এবং Scientific Reports-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পিউবিক হেয়ার অপসারণের ফলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হচ্ছে:
-
সংক্রমণের প্রবেশপথ: রেজার দিয়ে কাটার সময় ত্বকে যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ক্ষত (Micro-cuts) তৈরি হয়, তা দিয়ে খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে।
-
ফলিকুলাইটিস ও র্যাশ: ঘন ঘন শেভিংয়ের ফলে লোমকূপের গোড়া ফুলে যাওয়া (Folliculitis), চুলকানি এবং লাল ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে।
-
এসটিআই (STI) ঝুঁকি: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত গ্রুমিং করেন, তাদের মধ্যে এইচপিভি (HPV) এবং হারপিসের মতো যৌন সংক্রামক রোগের হার তুলনামূলক বেশি।
-
ইউটিআই (UTI) ও জ্বালাপোড়া: লোম না থাকলে ত্বকে ঘর্ষণ বাড়ে, যা থেকে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে মূত্রনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ: কী করবেন আর কী করবেন না? গাইনোকোলজিস্টদের মতে, গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখা একটি ব্যক্তিগত পছন্দ হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো ‘মেডিক্যাল প্রয়োজনীয়তা’ নয়। যদি পরিষ্কার করতেই হয়, তবে চিকিৎসকরা তিনটি বিষয়ে জোর দিচ্ছেন: ১. ছেঁটে ফেলা (Trimming) ভালো: একেবারে কামিয়ে ফেলার চেয়ে কাঁচি দিয়ে ছোট করে ছেঁটে নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ। এতে ত্বক সুরক্ষিত থাকে। ২. লেজার ট্রিটমেন্ট: বারবার শেভিং বা ওয়াক্সিং করার চেয়ে লেজার হেয়ার রিমুভাল অনেকটা নিরাপদ। তবে এটি অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে করা উচিত, কোনো সাধারণ পার্লারে নয়। ৩. স্বাস্থ্যবিধি: পরিচ্ছন্নতা নির্ভর করে সাবান ও জল দিয়ে এলাকাটি কতটা পরিষ্কার রাখা হচ্ছে তার ওপর, লোম সাফ করার ওপর নয়।
মনে রাখবেন: লোম আপনাকে অস্বাস্থ্যকর করে না, বরং ভুল পদ্ধতিতে লোম পরিষ্কার করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক আপনার শরীরে জটিল রোগ ডেকে আনে।