রূপচর্চার ধারণা অনেকের কাছেই মূলত ত্বক পরিচর্যার সামগ্রীর ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কেবল নামী-দামি সংস্থার প্রসাধনী ব্যবহার করাই ত্বকের যত্নের শেষ কথা নয়। সুন্দর ও সুস্থ ত্বক পেতে পরিচর্যা প্রয়োজন ভেতর থেকেও, যার জন্য দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়ায় আনতে হবে কিছু বিশেষ পরিবর্তন। সেক্ষেত্রে কোন খাবারগুলির প্রতি বেশি করে নজর দেওয়া উচিত, তা জেনে নেওয়া যাক:
১. ভিটামিন সি যুক্ত খাবার: আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ভিটামিন সি যুক্ত খাবার রাখুন। ভিটামিন সি-এর মতো উপকারী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট খুব কমই আছে। এটি ত্বকের পুষ্টি জোগায় এবং কোলাজেন উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে। বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে ভিটামিন সি-এর বিকল্প খুব কমই রয়েছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভিটামিন সি অপরিহার্য। লেবু, বিভিন্ন ধরনের বেরি (যেমন স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি), পালংশাক এবং অন্যান্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি আপনার রোজকার খাবারের পাতে যোগ করুন।
২. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার: শুধু ভিটামিন সি নয়, ভিটামিন ডি-ও ত্বকের যত্নের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। তাই ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনের পাতে রাখা জরুরি। ত্বকের অকাল বার্ধক্য রুখতে ডিম, বিভিন্ন ধরনের ডাল এবং সয়াবিনের মতো ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার খান। এর ফলে ত্বক ভেতর থেকে সুস্থ থাকবে এবং হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসবে। পর্যাপ্ত সূর্যালোকও ভিটামিন ডি-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
৩. ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: ত্বক সুস্থ রাখবেন অথচ রোজের ডায়েটে ওমেগা ৩ থাকবে না, তা কী করে সম্ভব? ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করে এবং ব্রণর সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। প্রতিদিন না হলেও অন্তত সপ্তাহে কয়েক দিন ওমেগা-৩ আছে এমন খাবার খান। মাছ (যেমন স্যামন, ম্যাকারেল), ফ্ল্যাক্সসিড (তিসি বীজ), চিয়া সিড (চিয়া বীজ) এবং আখরোট ওমেগা-৩ এর ভালো উৎস।
সুতরাং, কেবল বাহ্যিক প্রসাধনীর উপর নির্ভর না করে, ভেতর থেকে ত্বকের যত্ন নিতে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আপনার ডায়েটে যোগ করুন। এর মাধ্যমেই আপনি পেতে পারেন স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও সুন্দর ত্বক।