জিমে গিয়ে শরীরচর্চার সময় হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা আজকাল উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি ভারতের জনপ্রিয় কমেডিয়ান রাজু শ্রীবাস্তবের ট্রেডমিলে হাঁটার সময় হার্ট অ্যাটাক এবং তার আগে আরও এক নারীর জিমে অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর ঘটনা এই ঝুঁকির দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রশ্ন উঠছে, জিমে বা ব্যায়াম করার সময় কেন হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়?
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শুধু ব্লাড প্রেশার বা কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেই হৃদযন্ত্র সম্পূর্ণ সুস্থ আছে এমনটা নাও হতে পারে। জিনগত কারণেও হৃদরোগের ঝুঁকি থাকতে পারে। এর সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন সেই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ ব্যক্তিরাও হার্ট অ্যাটাকের শিকার হতে পারেন।
কাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি?
এক্সারসাইজ ফিজিওলজিস্ট মাইকেল জয়নারের মতে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বেশি বয়সের ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, কম বয়সীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হলেও, যাদের জন্মগত হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে তাদের যেকোনো বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তবে বেশি বয়সে ব্যায়াম করার সময় হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বেশি ঘটে।
হার্ট অ্যাটাক এড়াবেন কীভাবে?
আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসের হার্ট ইনস্টিটিউটের সহযোগী পরিচালক সুমিত চৌগের পরামর্শ, যারা মাসল তৈরির জন্য জিমে গিয়ে ভারোত্তোলন করেন, তাদের উচিত প্রথম দিকে অতিরিক্ত ওজন তোলা পরিহার করা। শুরুতে কয়েক মাস সাধারণ ব্যায়াম করুন এবং ধীরে ধীরে ওয়েট লিফটিংয়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
মুম্বাইয়ের য়াকহার্ট হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. কৌশল ছত্রপতি পরামর্শ দেন:
ধীরে ধীরে শুরু করুন: যদি আপনি ভারী ব্যায়াম করতে অভ্যস্ত না হন, তাহলে হঠাৎ কঠোর ব্যায়াম শুরু করবেন না। ধীরে ধীরে ব্যায়ামের সময় ও গতি বাড়ান। প্রতিদিন ৩-৫ কিলোমিটার দ্রুত হাঁটার মাধ্যমে শুরু করতে পারেন এবং ধীরে ধীরে নিজের স্ট্যামিনা তৈরি করুন।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অবহেলা নয়: প্রত্যেকেরই উচিত নিয়মিত ব্লাড প্রেশার, এলডিএল, কোলেস্টেরল এবং এইচবিএ১সি-এর মাত্রা জানা। বুকের ব্যথাকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ইসিজি করান এবং কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক চিকিৎসা হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে জীবন বাঁচাতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ হার্ট অ্যাটাকের অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে কিছু উপসর্গ অনুভব করেন, তবে সেগুলোকে সাধারণ ভেবে অবহেলা করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপা ব্যথা বা অস্বস্তি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চোয়াল বা ঘাড়ে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
জিমে ব্যায়াম করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো অস্বাভাবিকতা অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। সচেতনতাই পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে।