আমাদের রান্নাঘরে ডিশওয়াশিং লিকুইড বা বার এখন অপরিহার্য। তেলের দাগ তোলা বা বাসনকে ঝকঝকে করে তুলতে আমরা দু’বেলা এগুলো ব্যবহার করি। কিন্তু সম্প্রতি একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আপনি যে থালা-বাসনে খাচ্ছেন, তাতে লেগে থাকা সামান্য অবশিষ্টাংশ আপনার শরীরে পৌঁছে ঘটাচ্ছে মারাত্মক ক্ষতি।
চকচকে বাসনের আড়ালে কীভাবে ঘাতক কেমিক্যাল বাসা বাঁধছে, তা জানলে আপনিও আঁতকে উঠবেন:
১. ক্ষতিকর কেমিক্যালের দাপট:
অধিকাংশ ডিশওয়াশিং লিকুইডে থাকে ‘সোডিয়াম লরেথ সালফেট’ (SLS), ফসফেট এবং কৃত্রিম সুগন্ধি। যদি বাসন ধোয়ার পর তা ভালো করে জল দিয়ে পরিষ্কার না করা হয়, তবে এই কেমিক্যালগুলো শুকিয়ে বাসনের গায়ে লেপ্টে থাকে। পরে গরম খাবার ঢাললে তা খাবারের সঙ্গে মিশে সরাসরি পাকস্থলীতে যায়।
২. অন্ত্রের রোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি:
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শরীরে এই রাসায়নিক প্রবেশ করলে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে বদহজম, লিভারের সমস্যা এবং এমনকি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিও হতে পারে।
৩. ত্বকের সমস্যা ও অ্যালার্জি:
এই তরল সাবানগুলোতে থাকা কড়া কেমিক্যাল হাত দিয়ে ব্যবহারের ফলে অনেকের ত্বকে সংক্রমণ বা একজিমা দেখা দেয়। এটি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকেও ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিতে পারে।
সুরক্ষিত থাকতে কী করবেন?
প্রচুর জল দিয়ে ধোয়া: বাসন ধোয়ার পর অন্তত ২-৩ বার ভালো করে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন যাতে কোনো পিচ্ছিল ভাব না থাকে।
প্রাকৃতিক বিকল্প: বাজারচলতি লিকুইড ছেড়ে লেবুর রস, ভিনিগার বা রিঠা ফলের নির্যাস ব্যবহার করে বাসন মাজার চেষ্টা করুন। এটি ১০০ শতাংশ নিরাপদ।
গরম জলের ব্যবহার: বাসন ধোয়ার পর একবার গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিলে কেমিক্যাল মুক্ত হওয়া সহজ হয়।
সুগন্ধি এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত কড়া গন্ধযুক্ত লিকুইড কিনবেন না, কারণ এতে কেমিক্যালের মাত্রা বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: বাসন ধোয়ার সময় সম্ভব হলে গ্লাভস ব্যবহার করুন এবং ধোয়ার পর বাসনগুলো কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। মনে রাখবেন, বাসনের অতি-উজ্জ্বলতা আপনার স্বাস্থ্যের চেয়ে দামী নয়।





