বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি ঘরে ঘরে এক সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই কমবেশি পেটের জ্বালাপোড়া বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন। অনেকে এর থেকে মুক্তি পেতে মুড়ি-মুড়কির মতো গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার অত্যন্ত সহজ ও কার্যকরী কিছু উপায় নিচে দেওয়া হলো:
উষ্ণ জল পানের অভ্যাস: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অন্তত এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জল পান করুন। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখতে এবং টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।
আদা ও মধুর জাদু: আদা হজম শক্তি বাড়াতে অতুলনীয়। এক টুকরো আদা চিবিয়ে খান অথবা আদা চা পান করুন; এটি নিমেষেই পেটের গ্যাস কমিয়ে দেয়।
খাবার খাওয়ার নিয়ম: একেবারে পেট ভরে না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাওয়ার সময় ভালোভাবে চিবিয়ে খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়।
ভাজাভুজি ও মশলাযুক্ত খাবার বর্জন: অতিরিক্ত তেল, মশলা এবং বাইরের খোলা খাবার পরিহার করুন। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে ফেলার চেষ্টা করুন।
টক দইয়ের কার্যকারিতা: টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিকস বা ভালো ব্যাকটেরিয়া হজমে সহায়তা করে এবং বুক জ্বালাপোড়া কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
পর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক কসরত: অনিদ্রা গ্যাস্ট্রিকের একটি বড় কারণ। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম এবং হালকা ব্যায়াম গ্যাস হওয়া প্রতিরোধ করে।
শসা ও ডাবের জল: শসা শরীর ঠান্ডা রাখে এবং এতে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে। একইভাবে ডাবের জল শরীরের পিএইচ (pH) লেভেল ঠিক রেখে অ্যাসিড দূর করে।
সম্পাদকের নোট: যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র পেটে ব্যথা বা অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে, তবে ঘরোয়া টোটকার পাশাপাশি অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।





