ভ্রমণ মানেই আনন্দ, কিন্তু অনেকের কাছে এই আনন্দটাই বিষাদে পরিণত হয় যখনই তারা চলন্ত গাড়িতে বসেন। বিশেষ করে ট্রেনের সিট বা বাসের আসন যদি গতির উল্টো দিকে হয়, তবে অনেকেরই মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘মোশন সিকনেস’ (Motion Sickness)।
কেন এমন হয়? আর এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়ই বা কী? জেনে নিন আজকের এই প্রতিবেদনে:
কেন উল্টো দিকে বসলে বমি পায়?
আমাদের শরীর যখন গতিশীল থাকে, তখন মস্তিষ্ক মূলত তিনটি উৎস থেকে সিগন্যাল পায়—চোখ, ভেতরের কান এবং শরীরের পেশি। আপনি যখন গাড়ির গতির উল্টো দিকে মুখ করে বসেন, তখন আপনার চোখ যে দৃশ্য দেখে এবং আপনার কানের ভারসাম্য রক্ষা করার তরল (Vestibular System) যে গতি অনুভব করে, তার মধ্যে একটি ‘মিসম্যাচ’ বা সংঘাত তৈরি হয়। মস্তিষ্ক এই বিভ্রান্তিকর সিগন্যালগুলো সামলাতে পারে না, যার ফলে শরীর প্রতিক্রিয়া হিসেবে বমি ভাব বা মাথা ঘোরার সংকেত পাঠায়।
অস্বস্তি থেকে বাঁচার ৫টি জাদুকরী উপায়:
১. গতির দিকে মুখ করে বসুন:
যদি সম্ভব হয়, সবসময় গাড়ির গতির দিকে মুখ করে বসার চেষ্টা করুন। এতে চোখ এবং কান একই ধরণের সিগন্যাল মস্তিষ্কে পাঠায়, ফলে মোশন সিকনেস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
২. দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকা:
অস্বস্তি শুরু হলে জানালার বাইরে দূরে স্থির কোনো বস্তুর দিকে (যেমন দূরের পাহাড় বা গাছ) তাকিয়ে থাকুন। ফোনের স্ক্রিন বা বই পড়ার চেষ্টা একদম করবেন না, কারণ এটি বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।
৩. আদা বা লবঙ্গ ব্যবহার:
ভ্রমণের আগে বা ভ্রমণের সময় এক টুকরো আদা বা লবঙ্গ মুখে রাখতে পারেন। আদার রস প্রাকৃতিকভাবে বমি ভাব কমাতে দারুণ কার্যকরী। এছাড়া আদা চা-ও পান করতে পারেন।
৪. গভীর শ্বাস নেওয়া (Deep Breathing):
অস্বস্তি বোধ করলে চোখ বন্ধ করে লম্বা লম্বা শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। পর্যাপ্ত অক্সিজেন মস্তিষ্কে পৌঁছালে নার্ভ শান্ত হয় এবং বমি ভাব কমে যায়। সম্ভব হলে জানালা খুলে টাটকা হাওয়া আসার ব্যবস্থা করুন।
৫. অ্যাকুপ্রেশার ট্রিক:
আপনার কবজির ঠিক দুই ইঞ্চি নিচে বুড়ো আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিন। এটি শরীরে বমি ভাব কমানোর একটি প্রাচীন এবং কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যদি আপনার মোশন সিকনেস খুব বেশি হয়, তবে ভ্রমণের অন্তত ৩০ মিনিট আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোনো অ্যান্টি-এমেটিক বা বমি নিরোধক ওষুধ খেয়ে নিতে পারেন। খালি পেটে ভ্রমণ না করাই ভালো, তবে খুব ভারী খাবার খেয়ে গাড়িতে ওঠাও অনুচিত।





