শীতের রোদে বসে কমলালেবু খাওয়ার মজাই আলাদা। কিন্তু ফলটি খাওয়ার পর আমরা সাধারণত কী করি? খোসাটা সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দিই। এখানেই আমরা মস্ত বড় ভুল করি! আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে বিউটিশিয়ান— সবার মতেই, কমলার কোয়ার চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে বেশি গুণী তার খোসা।
কেন কমলার খোসা আপনার দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত? জেনে নিন অবাক করা কিছু ব্যবহার:
১. উজ্জ্বল ত্বকের গোপন চাবিকাঠি
কমলার খোসায় লেবুর রসের চেয়েও বেশি ভিটামিন C থাকে। এর গুঁড়ো দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ত্বকের কালো দাগ দূর করে এবং অকাল বার্ধক্য রুখে দেয়। প্রাকৃতিক ‘ব্লিচিং এজেন্ট’ হিসেবে এর জুড়ি মেলা ভার।
২. ঘরের প্রাকৃতিক সুগন্ধি (Air Freshener)
বাজারের কেমিক্যালযুক্ত এয়ার ফ্রেশনারের বদলে ব্যবহার করুন কমলার খোসা। সামান্য জলে কিছু খোসা আর দারুচিনি ফুটিয়ে নিন। সেই সুগন্ধে আপনার ঘর নিমেষেই সতেজ হয়ে উঠবে। এটি রান্নাঘরের আঁশটে গন্ধ দূর করতেও ওস্তাদ।
৩. হজম শক্তি বাড়াতে ম্যাজিক
শুনতে অবাক লাগলেও, কমলার খোসার চা হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা ‘পেকটিন’ নামক ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে এবং মেটাবলিজম বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে ওজন কমাতেও সহায়ক।
৪. দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করতে
দাঁতের ওপর কমলার খোসার সাদা অংশটি ঘষলে দাঁতের হলদে ছোপ দ্রুত পরিষ্কার হয়। এতে থাকা ‘লিমোনিন’ প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে এবং মাড়ি মজবুত রাখে।
৫. গাছের সার হিসেবে সেরা
আপনি কি বাগান করতে ভালোবাসেন? তবে কমলার খোসা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে মাটিতে মিশিয়ে দিন। এটি নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার হিসেবে কাজ করে এবং পিঁপড়ে বা পোকামাকড় দূরে রাখে।
প্রো-টিপ:
খোসা ব্যবহারের আগে অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে নেবেন যাতে কোনো পেস্টিসাইড বা রাসায়নিক লেগে না থাকে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য খোসা ছোট ছোট করে কেটে কড়া রোদে শুকিয়ে কাঁচের বয়ামে ভরে রাখুন।