রক্তচাপের সমস্যা ধরা পড়ার পর অধিকাংশ রোগীর প্রথম প্রশ্ন থাকে— “ডাক্তারবাবু, এই ওষুধ কি সারাজীবন খেতে হবে?” এই ভয় থেকেই অনেকে ওষুধ শুরু করতে দেরি করেন, যা ডেকে আনে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং চিকিৎসকদের মতে, এর উত্তর যেমন ‘হ্যাঁ’, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে ‘না’-ও হতে পারে।
আসুন জেনে নিই প্রেসারের ওষুধের গুরুত্ব এবং এটি বন্ধ করা সম্ভব কি না সেই বিষয়ে আসল তথ্য।
১. অধিকাংশ ক্ষেত্রে জীবনভর ওষুধ কেন?
চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ বেশিরভাগ সময় ‘প্রাইমারি হাইপারটেনশন’, যার কোনো নির্দিষ্ট একটি কারণ থাকে না। এটি বয়সের সাথে সাথে বা বংশগত কারণে হয়। এক্ষেত্রে ওষুধ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, কিন্তু রোগটিকে পুরোপুরি নির্মূল করে না। তাই ওষুধ বন্ধ করলে প্রেসার আবারও বেড়ে গিয়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।
২. কখন ওষুধ বন্ধ বা কমানো সম্ভব?
যদি কারো উচ্চ রক্তচাপের কারণ হয় অনিয়মিত জীবনযাপন (যেমন— অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ বা ধূমপান), তবে জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনে ওষুধ কমানো সম্ভব হতে পারে।
ওজন হ্রাস: শরীরের ওজন ৫-১০ কেজি কমাতে পারলে রক্তচাপ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।
লবণ নিয়ন্ত্রণ: খাবারে কাঁচা লবণের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করলে ওষুধের ডোজ কমে যেতে পারে।
ব্যায়াম: প্রতিদিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা যোগব্যায়াম করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৩. নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধের মস্ত বড় ভুল
অনেকেই কয়েকদিন প্রেসার স্বাভাবিক দেখলে ভাবেন তারা সুস্থ হয়ে গেছেন এবং ওষুধ বন্ধ করে দেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ রক্তচাপ হুট করে বেড়ে গিয়ে ব্রেন হেমারেজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ওষুধের ডোজ কমানো বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত একমাত্র আপনার চিকিৎসকই নিতে পারেন।
৪. সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন
যদি কারো কিডনির সমস্যা বা থাইরয়েডের কারণে প্রেসার বাড়ে, তবে সেই মূল রোগটি সেরে গেলে ব্লাড প্রেসারের ওষুধ বন্ধ করা সম্ভব হয়।
চিকিৎসকের চূড়ান্ত পরামর্শ:
ব্লাড প্রেসারের ওষুধকে ‘বোঝা’ মনে না করে ‘সুরক্ষাকবচ’ হিসেবে দেখুন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে এমন জায়গায় নিয়ে যান যাতে আপনার ডাক্তারই ওষুধের ডোজ কমিয়ে দেওয়ার ভরসা পান। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একদিনও ওষুধ মিস করবেন না।