ব্যস্ত কর্মজীবনে পদোন্নতির নেশা বা কাজের চাপে আমরা অনেকেই অফিসের নির্দিষ্ট সময়সীমা মানতে পারি না। ৮ ঘণ্টার ডিউটি অনায়াসেই ১০ থেকে ১২ ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকে। মাস শেষে ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়লেও, শরীর কিন্তু এর চরম মূল্য চোকাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক আতঙ্কিত করার মতো তথ্য— অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা সরাসরি হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ডেকে আনছে হঠাৎ মৃত্যু।
কেন বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি?
গবেষকদের মতে, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তনালীতে ব্লকেজ তৈরির প্রধান কারণ।
অতিরিক্ত কাজের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ:
সাইলেন্ট কিলার বা উচ্চ রক্তচাপ: একটানা ডেস্কে বসে কাজ করলে রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়, যাকে চিকিৎসকরা ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলেন।
মানসিক অবসাদ ও অনিদ্রা: দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে মস্তিষ্কের বিশ্রাম হয় না। এর ফলে ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা দেখা দেয়, যা পরবর্তীকালে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস: কাজের চাপে সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া এবং ক্যাফেইন বা ধূমপানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শরীরকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দেয়।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: দীর্ঘ কর্মঘণ্টার পর ব্যায়াম করার মতো শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। ফলে স্থূলতা এবং ডায়াবেটিস দ্রুত শরীরে বাসা বাঁধে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
চিকিৎসকদের মতে, ক্যারিয়ারের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম এবং কাজের ফাঁকে প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর ৫ মিনিটের বিরতি নেওয়া জরুরি। অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করার চেষ্টা করুন এবং ছুটির দিনটি পরিবারের সাথে কাটান।
উপসংহার:
সাফল্যের চাবিকাঠি কঠোর পরিশ্রম হলেও, তা যেন আপনার জীবনের বিনিময়ে না হয়। সুস্থ দেহ না থাকলে সেই অর্জিত সাফল্য উপভোগ করার সুযোগও মিলবে না। তাই কাজের ফাঁকে নিজের শরীরকেও সময় দিন, কারণ জীবন একবারই পাওয়া যায়।





