রাতে সময়মতো ঘুমাতে গেলেন, টানা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমও হলো, কিন্তু সকালে ওঠার পর মনে হচ্ছে শরীর যেন চলছে না! সারাদিন কাজের ফাঁকে হাই তোলা আর চোখ বুজে আসা— এই সমস্যাকে আমরা অনেকেই সাধারণ অলসতা বলে উড়িয়ে দিই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও যদি আপনি দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি (Chronic Fatigue) অনুভব করেন, তবে তা শরীরের কোনো গোপন বিপদের সংকেত হতে পারে।
কেন ঘুমালেও কাটছে না ক্লান্তি? চিকিৎসকরা যে কারণগুলোর দিকে আঙুল তুলছেন:
১. স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea)
এটি ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের একটি গুরুতর সমস্যা। এতে ঘুমের ঘোরে অজান্তেই শ্বাস কয়েক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, যা আপনার নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে আপনি ঘুম থেকে ওঠার পর নিজেকে অত্যন্ত ক্লান্ত অনুভব করেন। নাক ডাকার সমস্যা থাকলে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
২. অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা
শরীরে আয়রন বা লোহিত রক্তকণিকার অভাব থাকলে কোষগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। এর ফলে শরীর সবসময় অবসন্ন থাকে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়।
৩. থাইরয়েডের সমস্যা
থাইরয়েড হরমোন আমাদের শরীরের মেটাবলিজম এবং এনার্জি লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড গ্রন্থি যদি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি না করে (Hypothyroidism), তবে প্রচুর ঘুমালেও আপনার ক্লান্তি কাটবে না এবং শরীরের জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে।
৪. ভিটামিন D ও B12-এর ঘাটতি
বর্তমানে রোদে কম যাওয়া এবং ডায়েটে অনিয়মের কারণে ভিটামিন D ও B12-এর ঘাটতি এখন ঘরে ঘরে। এই দুটি ভিটামিন আমাদের স্নায়ু ও পেশিকে সচল রাখে। এদের অভাবে মাংসপেশিতে দুর্বলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি দেখা দেয়।
৫. মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশন
ক্লান্তি কেবল শারীরিক নয়, মানসিকও হতে পারে। গভীর চিন্তা বা বিষণ্নতা আপনার মস্তিস্ককে শান্ত হতে দেয় না। ফলে আপনি বাহ্যিকভাবে ঘুমালেও আপনার মস্তিস্ক বিশ্রাম পায় না, যার ফল হলো সকালের ক্লান্তি।
৬. ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা
শরীরে জলের পরিমাণ সামান্য কমে গেলেও রক্ত ঘন হয়ে যায়, ফলে হৃদপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এতে শরীরে ক্লান্তি জাঁকিয়ে বসে।
চিকিৎসকের পরামর্শ:
যদি এই সমস্যা ১৫ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে নিজেই আয়রন বা ভিটামিন ট্যাবলেট না খেয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রক্ত পরীক্ষা (Blood Test) করলেই আসল কারণ ধরা পড়বে। পাশাপাশি শোয়ার ঘর অন্ধকার রাখা এবং ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।