হাঁটু ও কোমরের ব্যথায় কাবু? এই ৩টি আয়ুর্বেদিক উপাদানেই মিলবে চিরস্থায়ী মুক্তি!

শীতের আমেজ হোক কিংবা বয়সের ভার—গাঁটে গাঁটে ব্যথার সমস্যায় বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জর্জরিত। আধুনিক পেনকিলার সাময়িকভাবে আরাম দিলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত থাকেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা আবারও প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। আয়ুর্বেদিক উপায়ে শরীরের ‘বাত’ দোষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই জয়েন্ট পেইন বা বাতের ব্যথা থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ব্যথা কমাতে বিশেষজ্ঞরা কোন কোন আয়ুর্বেদিক দাওয়াইয়ের কথা বলছেন? দেখে নিন এক নজরে:

১. আদা ও শুঁঠের জাদু: আদার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা হাড়ের সংযোগস্থলের ফোলাভাব ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে শুকনো আদার গুঁড়ো বা শুঁঠ কুসুম গরম জলে মিশিয়ে খেলে গাঁটের ব্যথায় দ্রুত আরাম মেলে।

২. হলুদের গুনাগুণ (কারকিউমিন): হলুদকে বলা হয় প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক। হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ নামক উপাদানটি হাড়ের ক্ষয় রোধ করে এবং প্রদাহ কমায়। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পান করার অভ্যাস করুন।

৩. অশ্বগন্ধার ব্যবহার: আয়ুর্বেদে অশ্বগন্ধা একটি মহৌষধ হিসেবে পরিচিত। এটি শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় এবং স্নায়ু ও হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে। দীর্ঘস্থায়ী বাতের ব্যথায় অশ্বগন্ধা চূর্ণ নিয়মিত সেবন করলে হাড়ের নমনীয়তা বাড়ে।

৪. রসুন ও তিলের তেলের ম্যাসাজ: ব্যথা সারাতে মালিশের বিকল্প নেই। সরষের তেল বা তিলের তেলের সাথে কয়েক কোয়া রসুন ফুটিয়ে সেই তেল হালকা গরম অবস্থায় জয়েন্টে মালিশ করুন। রসুনে থাকা সালফার ব্যথা উপশমে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

৫. মেথি ভেজানো জল: মেথি দানা শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। রাতে এক চামচ মেথি এক গ্লাস জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জল পান করুন। এটি হাড়ের জয়েন্টের স্টিফনেস বা আড়ষ্টতা দূর করে।

বিশেষজ্ঞের বিশেষ টিপস: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত টক খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট ভোরের রোদে বসুন, যা হাড় মজবুত করতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন-ডি সরবরাহ করবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy