হঠাৎ পেশিতে টান ধরে অস্থির? নিমিষেই ব্যথা কমাতে জেনে নিন ৫টি ঘরোয়া টোটকা

কখনও ব্যায়াম করার সময়, আবার কখনও গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করেই পায়ের বা হাতের পেশি পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। একেই আমরা চলতি ভাষায় ‘পেশিতে টান ধরা’ বলি। শরীরে জলের অভাব, ইলেকট্রোলাইট বা লবণের ভারসাম্যহীনতা কিংবা পেশির অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে এমনটা হতে পারে। তবে এই যন্ত্রণার সময় আতঙ্কিত না হয়ে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব।

পেশিতে টান ধরলে যা করবেন:

স্ট্রেচিং ও মাসাজ: পেশিতে টান ধরার সঙ্গে সঙ্গে সেই পেশিকে আলতো করে স্ট্রেচ বা প্রসারিত করুন। যদি পায়ে টান লাগে, তবে পায়ের আঙুলগুলো নিজের দিকে টেনে ধরার চেষ্টা করুন। এরপর হালকা হাতে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হবে এবং পেশি শিথিল হবে।

গরম বা ঠান্ডা সেঁক: টান ধরা জায়গায় হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে গরম সেঁক দিলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং পেশি নরম হয়। আবার অনেক সময় বরফ বা ঠান্ডা সেঁক দিলেও ব্যথার অনুভূতি কমে। আপনার সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।

লবণ-চিনির জল বা ওআরএস (ORS): শরীরে পটাশিয়াম, সোডিয়াম বা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে পেশিতে টান ধরে। এমন পরিস্থিতিতে এক গ্লাস নুন-চিনির জল বা ওআরএস খেলে শরীরের খনিজের ভারসাম্য ফিরে আসে এবং দ্রুত স্বস্তি মেলে।

হলুদ ও দুধের মিশ্রণ: হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে ওস্তাদ। এক গ্লাস গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে খেলে পেশির খিঁচুনি কমে এবং ব্যথা উপশম হয়।

কলা ও ডাবের জল: কলায় থাকা পটাশিয়াম এবং ডাবের জলের ইলেকট্রোলাইট পেশির কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যারা ঘনঘন ক্র্যাম্পের সমস্যায় ভোগেন, তাদের খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখা জরুরি।

কখন সতর্ক হবেন?
যদি ঘরোয়া উপায়েও ব্যথা না কমে, পেশি ফুলে যায় বা বারবার এই সমস্যা হতে থাকে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি অনেক সময় স্নায়বিক সমস্যা বা গুরুতর খনিজ ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy