এক সময় মনে করা হতো, স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি হলে সংসারে ইগো বা অহমিকার লড়াই শুরু হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের সামাজিক প্রেক্ষাপট বলছে একদম উল্টো কথা। সম্প্রতি একটি নামী ম্যাট্রিমনি সাইটের দেশব্যাপী চালানো সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—এখনকার পুরুষরা জীবনসঙ্গী হিসেবে এমন নারীকে বেশি পছন্দ করছেন, যিনি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী এবং প্রয়োজনে স্বামীর চেয়েও বেশি আয় করেন।
সমীক্ষার মূল নির্যাস: কেন মানসিকতা বদলাচ্ছে?
এই সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ পুরুষ মনে করেন, জীবনসঙ্গী বেশি আয় করলে তা ইগোর লড়াই নয়, বরং পরিবারের আর্থিক ভিত্তিকে মজবুত করে। এর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে:
আর্থিক নিরাপত্তা: বর্তমানের আকাশছোঁয়া মহার্ঘভাতার যুগে একা স্বামীর আয়ে সংসার চালানো কঠিন। স্ত্রীর ভালো আয় পরিবারকে একটি উন্নত জীবনযাত্রার (Standard of Living) নিশ্চয়তা দেয়।
ইগোর চেয়ে বাস্তব বড়: আধুনিক ও শিক্ষিত পুরুষরা এখন অনেক বেশি প্রগতিশীল। তারা মনে করেন, আয় যারই বেশি হোক না কেন, দিনশেষে সেটা পরিবারেরই সম্পদ।
কর্মক্ষেত্রে সম্মান: সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব স্ত্রী কর্পোরেট বা পেশাদার জগতে উচ্চপদে আসীন, তাদের প্রতি স্বামীদের শ্রদ্ধা ও আকর্ষণের মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে।
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞেরা কী বলছেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ত্রীর বেশি আয় সম্পর্কে সমস্যা তৈরি করে না, বরং সমস্যা তৈরি করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। যদি স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া এবং স্বচ্ছতা থাকে, তবে আয়ের বৈষম্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। বরং এটি দম্পতিদের স্বপ্ন পূরণে (যেমন নিজের বাড়ি কেনা বা বিদেশ ভ্রমণ) বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
সফল সম্পর্কের টিপস:
১. যোগাযোগ: টাকা নিয়ে লুকোছাপা না করে দুজনেই আলোচনার মাধ্যমে খরচের বাজেট ঠিক করুন।
২. সম্মান: আয়ের অঙ্ক দিয়ে একে অপরকে বিচার না করে ব্যক্তিগত গুণাবলিকে মর্যাদা দিন।
৩. ইগো বর্জন: “আমি বেশি টাকা দিচ্ছি” বা “আমি কম আয় করি”—এই হীনম্মন্যতা বা দম্ভ যেন সম্পর্কের মাঝে না আসে।