অনেকেই অভিযোগ করেন যে, পাশের ঘরে কেউ হাঁটলে বা সামান্য আওয়াজ হলেও তাঁদের ঘুম টুটে যায়। এই ধরণের পাতলা ঘুমের কারণে পরদিন সকালে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের গভীর স্তর বা ‘Deep Sleep’ পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারলেই এমনটা হয়।
কীভাবে আপনার ঘুমকে আরও গভীর ও নিটোল করবেন? দেখে নিন উপায়গুলো:
১. হোয়াইট নয়েজ (White Noise)-এর ব্যবহার
হঠাৎ কোনো শব্দে ঘুম ভাঙা আটকাতে ‘হোয়াইট নয়েজ’ দারুণ কাজ করে। এটি ঘরের ভেতরের একঘেয়ে কোনো শব্দ (যেমন ফ্যানের আওয়াজ বা বিশেষ অ্যাপের শব্দ), যা বাইরের হঠাৎ আসা কর্কশ শব্দকে ঢেকে দেয়। এতে মস্তিষ্ক বাইরের শব্দে চট করে সাড়া দেয় না।
২. ঘরের পরিবেশ ও অন্ধকার
ঘুমের জন্য মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ জরুরি, যা অন্ধকারের ওপর নির্ভর করে। ঘর যত বেশি অন্ধকার হবে, ঘুম তত গভীর হবে। এছাড়া ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা কম (১৮-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রাখলে শরীরের তাপমাত্রা কমে এবং দ্রুত গভীর ঘুম আসে।
৩. কফি ও গ্যাজেট থেকে দূরত্ব
দুপুরের পর কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন। এটি স্নায়ুকে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজিত রাখে, ফলে ঘুম পাতলা হয়। এছাড়া শোওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো থেকে দূরে থাকুন। এই নীল আলো মস্তিষ্কের ঘুমের সংকেতকে বাধা দেয়।
৪. ইয়ারপ্লাগ বা আই মাস্কের ব্যবহার
যদি আপনার চারপাশ খুব কোলাহলপূর্ণ হয়, তবে নরম সিলিকনের ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করতে পারেন। এটি কানের ভেতর শব্দের প্রবেশ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। সাথে আই মাস্ক ব্যবহার করলে চোখের ওপর কোনো আলোর ঝিলিক পড়বে না, ফলে ঘুম হবে নিরবচ্ছিন্ন।
৫. ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
ম্যাগনেসিয়াম স্নায়ু ও পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে। রাতে শোওয়ার আগে কলা, কাঠবাদাম বা এক গ্লাস গরম দুধ খেলে ঘুমের মান অনেক উন্নত হয়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করুন। আমাদের শরীরের ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা বায়োলজিক্যাল ক্লক সেট হয়ে গেলে পাতলা ঘুমের সমস্যা অনেকটা কমে যায়।