বর্তমানের ইঁদুর দৌড়ের জীবনে ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপ আমাদের নিত্যসঙ্গী। সকালে অ্যালার্মের শব্দ থেকে শুরু করে অফিসের ডেডলাইন—সব মিলিয়ে এক অস্থির জীবন। কিন্তু জানেন কি, এই যে সারাক্ষণ বুক ধড়ফড় করা বা অকারণ চিন্তা, এটি কোনো সাধারণ মনের ভুল নয়? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এটি আপনার মস্তিষ্কের একটি জটিল লড়াই।
অ্যাংজাইটির সময় মস্তিষ্কের অন্দরে যা ঘটে:
আমাদের মস্তিষ্ক যখন মনে করে কোনো বিপদ আসছে, তখন সে তিনটি প্রধান অংশে সংকেত পাঠায়:
অ্যামিগডালা: এটি মস্তিষ্কের ‘বিপদ সংকেত’ বা এলার্ম। অ্যাংজাইটির সময় এটি অতি-সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সামনে বিপদ না থাকলেও শরীর মনে করে কিছু একটা খারাপ হতে চলেছে।
প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স: এটি আমাদের যুক্তিবাদী অংশ। দুশ্চিন্তার সময় এই অংশটি ঝিমিয়ে পড়ে, ফলে আমরা যুক্তি দিয়ে ভাবতে পারি না।
শারীরিক প্রতিক্রিয়া: এই দুইয়ের লড়াইয়ে শুরু হয় বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
অ্যাংজাইটি কোনো দুর্বলতা নয়:
অনেকেই ভাবেন ইচ্ছাশক্তি থাকলেই দুশ্চিন্তা কাটিয়ে ওঠা যায়। কিন্তু মনে রাখা জরুরি, অ্যাংজাইটি কোনো মানসিক দুর্বলতা নয়; বরং এটি শরীরের একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া। মস্তিষ্ক যখন মনে করে আপনি বিপদে আছেন, তখন সে আপনাকে বাঁচানোর জন্য ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মোডে নিয়ে যায়।
ব্যায়াম কেন ম্যাজিকের মতো কাজ করে?
মানসিক প্রশান্তি ফেরাতে ওষুধের চেয়েও অনেক সময় কার্যকরী হয় সামান্য শরীরচর্চা। এর পেছনে রয়েছে মজবুত বিজ্ঞান:
১. ফিল-গুড কেমিক্যাল: ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন এবং এন্ডোক্যানাবিনয়েডসের মতো রাসায়নিক নিঃসরণ বাড়ে, যা মনকে নিমেষেই শান্ত করে।
২. পেশির আরাম: উদ্বেগের কারণে আমাদের শরীর শক্ত হয়ে যায়। ব্যায়াম করলে পেশি শিথিল হয়, যা মস্তিষ্ককে শান্ত থাকার সংকেত পাঠায়।
৩. মনোযোগ পরিবর্তন: নেতিবাচক চিন্তা থেকে মন সরিয়ে ব্যায়ামের ছন্দে মনোনিবেশ করলে মস্তিষ্কের ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে।
কী করবেন?
আপনার কি ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে ঘাম ঝরাতে হবে? একদমই না। গবেষণা বলছে, মাত্র ১০ মিনিটের হালকা শরীরচর্চা বা জোরে হাঁটাও আপনার মেজাজ বদলে দিতে যথেষ্ট। চাইলে সাইকেল চালানো, নাচ কিংবা সাঁতারও বেছে নিতে পারেন।
সম্পাদকীয় পরামর্শ:
অ্যাংজাইটি সাময়িক হলেও একে অবহেলা করবেন না। যদি দেখেন দুশ্চিন্তা আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা দিচ্ছে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সুস্থ শরীরের জন্য সুস্থ মন সবার আগে প্রয়োজন।





