সম্পর্ক আছে, নিয়মিত দেখা হচ্ছে, হয়তো শারীরিক ঘনিষ্ঠতাও তুঙ্গে—কিন্তু ভবিষ্যতের কথা উঠলেই সঙ্গী এড়িয়ে যাচ্ছেন? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সাবধান! মনোবিজ্ঞানের ভাষায় আপনি হয়তো একজন ‘প্লেসহোল্ডার’ (Placeholder)।
সহজ কথায়, আপনার সঙ্গী হয়তো আপনাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান না, কিন্তু যতক্ষণ না তিনি তার স্বপ্নের ‘পারফেক্ট’ কাউকে পাচ্ছেন, ততক্ষণ একাকীত্ব ঘোচাতে আপনাকে ব্যবহার করছেন। এটি কোনো ভালোবাসা নয়, বরং নিজের স্বার্থে কাউকে ‘বসিয়ে রাখা’।
আপনি কি ‘প্লেসহোল্ডার’? চিনে নিন এই ৫টি রেড ফ্ল্যাগ:
১. ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় আপনি নেই: আপনার সঙ্গী আগামী মাস বা বছরের কোনো পরিকল্পনা আপনাকে ছাড়াই করেন। আপনি তার বর্তমানের সঙ্গী ঠিকই, কিন্তু ভবিষ্যতের কোনো ছবিতে আপনার জায়গা নেই।
২. পরিবার ও বন্ধুদের সাথে দূরত্ব: দীর্ঘদিনের সম্পর্ক হলেও তিনি আপনাকে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুবৃত্ত বা বাবা-মায়ের সাথে পরিচয় করাতে অনীহা প্রকাশ করেন। আপনাকে তিনি একটি ‘গোপন’ অধ্যায় হিসেবেই রাখতে চান।
৩. প্রয়োজনে হাজির, অন্য সময় নিখোঁজ: যখন তার একাকীত্ব লাগে বা কোনো প্রয়োজন হয়, তখন তিনি আপনাকে খুব ভালোবাসেন। কিন্তু আপনার প্রয়োজনে বা সাধারণ সময়ে তাকে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
৪. কমিটমেন্ট এড়িয়ে চলা: সম্পর্কের কোনো নাম দিতে (যেমন- বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড বা এনগেজমেন্ট) তার প্রবল অনীহা। “আমি এখন এসবের জন্য তৈরি নই” বা “চলো না যেমন চলছে তেমনই চলুক”—এই অজুহাতগুলো কি পরিচিত লাগছে?
৫. সবটাই ‘ক্যাজুয়াল’: আপনি তার কাছে কেবলই একজন ‘বিকল্প’। তিনি সবসময় তার অপশনগুলো খোলা রাখেন এবং আপনার সাথে থাকার পরেও অন্য কারও খোঁজ চালিয়ে যান।
কেন এমন সম্পর্কে থাকা বিপজ্জনক?
প্লেসহোল্ডার হিসেবে থাকা মানে নিজের আত্মসম্মানকে বিসর্জন দেওয়া। যখন আপনার সঙ্গী তার কাঙ্ক্ষিত কাউকে পেয়ে যাবেন, তখন কোনো কিছু না ভেবেই তিনি আপনাকে ত্যাগ করবেন। এতে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
পেশাদার পরামর্শ:
যদি এই লক্ষণগুলো মিলে যায়, তবে সঙ্গীর সাথে সরাসরি কথা বলুন। তিনি যদি আপনার সময়ের এবং আবেগের মর্যাদা দিতে না পারেন, তবে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, কারোর অভাব মেটানোর ‘স্টপ-গ্যাপ’ হওয়ার চেয়ে একা থাকা অনেক বেশি সম্মানের।