সঙ্গীকে সন্দেহ করছেন? তার আগে ভাবুন ভুল করছেন না তো, জানুন বিশদে

অনেক স্বামী ও স্ত্রী আছেন, যারা কথায় কথায় একে অন্যকে শুধু সন্দেহই করেন। এই সন্দেহের জেরেই দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত হয়ে যায় নড়বড়ে।
কিন্তু মজবুত সম্পর্কের বুনিয়াদই হলো বিশ্বাস ও ভরসা। এই দুই জায়গায় একটু খটকা লাগলেই কিন্তু তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে ভালোবাসার দাম্পত্য ঘর। আর সন্দেহ সেই সম্পর্কের ভিত নড়িয়ে দেয় পুরোপুরি।

দাম্পত্য সম্পর্কের ভাঙা-গড়ার খেলায় এক রকমের মহামারি হতে পারে এই সন্দেহ। তাই সম্পর্ক দাম্পত্য হোক বা প্রেমের, হুল ফোটাতে দেওয়া যাবে না সন্দেহকে। আসলে সঙ্গীকে নিয়ে মনে একবার সন্দেহ দানা বাঁধলে, তা কিন্তু দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সঙ্গীকে সন্দেহ করছেন? তার আগে জেনে নিন ভুল করছেন না তো। যেমন-

সন্দেহের কারণ পর্যালোচনা করুন: ভুলেও সন্দেহের বশে সরাসরি স্বামীকে প্রশ্ন করে বসবেন না। এতে আপনার মধ্যেকার দূরত্বই বাড়বে কেবল। বন্ধ হবে কথার আদান-প্রদান। তাই হঠকারি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সন্দেহের গভীরে যান। নিজেকে প্রশ্ন করুন, সন্দেহ করার মতো স্বামী সত্যিই কিছু করেছেন? নাকি কেবলমাত্র আপনার নিরাপত্তহীনতার কারণেই এমন ভ্রান্ত ধারণার জন্ম হয়েছে আপনার মনে? পূর্বের কোনও খারাপ অভিজ্ঞতার কারণেও কিন্তু আপনার মধ্যে সন্দেহ মাথাচাড়া দিতে পারে। তবে মনে রাখবেন সব সম্পর্কে একই রকম অভিজ্ঞতা হয় না। তাই আগে নিজের মনের মধ্যেকার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন। দরকার পড়লে পার্টনারের সাহায্য় নিন। তবে সন্দেহ থেকে এমন কোনও পদক্ষেপ করবেন না যাতে সঙ্গীর মনে আঘাত লাগে।

গড়ে তুলুন আত্মবিশ্বাস: আত্মবিশ্বাসে ভাঁটা পড়লে, তার প্রভাব পড়ে আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। কারণ আপনি নিজের অস্তিত্বকেই যদি প্রশ্ন করতে শুরু করেন, তখন নিরাপত্তাহীনতা তো আপনাকে ঘিরে ধরবেই। এর জেরে পার্টনারের যেকোনো কাজই আপনার চোখে সন্দেহজনক ঠেকে। সেক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জার্নাল লেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত নিজের সমস্ত চিন্তা-ভাবনা একটি ডায়েরিতে লিখে রাখুন। নিজের ভালো অনুভূতি এবং কোনও প্রশংসনীয় কাজের কথা লিখতেও ভুলবেন না। এতেই দেখবেন আত্মবিশ্বাস বেড়েছে অনেকটা।

গ্রহণ করতে শিখুন: মেনে নিতে হবে যে, কোনো সম্পর্কই ১০০ শতাংশ পারফেক্ট হয় না! সব সম্পর্কেই কিছু ভালো এবং খারাপ দিক রয়েছে। আর সম্পর্কে রহস্য না থাকলে তো কয়েক দিনেই একঘেয়েমি ঘিরে ধরবে। তেমনই দোষ-গুণ মিলিয়েই মানুষ। স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের ভালো দিকটা যেমন গ্রহণ করছেন হাসি মুখে। তেমনই তার ভুলগুলোকেও যে আপনাকেই আপন করে নিতে হবে। সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি তো আসবেই। তবে কতটা দক্ষতার সঙ্গে সেই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই ভুল বোঝাবুঝিকে প্রশ্রয় না দিয়ে দু’জন মিলে তা মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। তাতেই সন্দেহ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারবে না।

যোগাযোগই একমাত্র মাধ্যম​: ​সম্পর্কের যেকোনো সমস্যার সমাধান লুকিয়ে কার্যকরী কমিউনিকেশনেই। তাই সন্দেহ, ভুল বোঝাবুঝিকে মনের মধ্যে পুষিয়ে না রেখে স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী বা স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী শেয়ার করে ফেলুন। নিজের সমস্ত উদ্বেগ ও ভয়ের কথা একে অন্যের সামনে তুলে ধরুন। তবে কেউ কাইকে ঠেস মেরে কিন্তু কথা বলবেন না। বরং ভালোভাবে, ঠান্ডা মাথায় নিজের মনের কথা বলুন। একমাত্র কার্যকরী কমিউনিকেশনই পারে আপনাদের মনের সমস্ত সন্দেহ দূর করতে।

দূরে রাখুন নেগেটিভ চিন্তা: সন্দেহ কিন্তু মনের ভুলও হতে পারে। তাই এই সন্দেহকে বেশি প্রশ্রয় দেবেন না। মনে রাখবেন সন্দেহ কিন্তু প্রমাণিত নয়। সেখানে সবসময়ই ৫০-৫০ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নেগেটিভ চিন্তাভাবনাকে দূরে রেখে পজিটিভটাই ভাবুন প্রথমে। বেশি স্ট্রেস ও উদ্বেগ ঘিরে ধরলে যোগা-প্রাণায়ম করে সুস্থ থাকুন।