নবজাতকের প্রতিটি কান্না মানেই ক্ষুধা নয়, বরং এটি তাদের ভাষা। নতুন বাবা-মায়ের জন্য শিশুর এই ‘গোপন ভাষা’ বোঝা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কান্নার অপেক্ষা না করে ক্ষুধার প্রাথমিক সংকেতগুলো ধরতে পারলে শিশুকে খাওয়ানো অনেক সহজ হয়।
ক্ষুধার প্রাথমিক লক্ষণ চেনার উপায়:
শিশু কাঁদার আগেই কিছু সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দেয়, যেমন—মুখ খোলা-বন্ধ করা, মাথা এদিক-ওদিক ঘোরানো, হাত মুখে নেওয়া, আঙুল চোষা বা ঠোঁট চাটানো। এই সময়গুলো খেয়াল করলে কান্নার আগেই শিশুকে শান্তভাবে খাওয়ানো সম্ভব। তবে মনে রাখবেন, সব কান্না ক্ষুধার জন্য নয়; ভেজা ডায়াপার, গ্যাসের সমস্যা, ক্লান্তি বা আদরের অভাব থেকেও শিশু কাঁদতে পারে।
কতবার খাওয়ানো জরুরি?
নবজাতককে সাধারণত দিনে ৮-১০ বার খাওয়ানো প্রয়োজন। কোনো কঠোর সময়সূচী নয়, বরং শিশুর চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ানোই সবচেয়ে ভালো। বিশেষ করে জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে এবং দ্বিতীয় সপ্তাহ, ষষ্ঠ সপ্তাহ ও তিন মাস বয়সে দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির সময় শিশুরা ঘন ঘন খেতে চাইতে পারে। অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে প্রতি তিন ঘণ্টায় অন্তত একবার খাওয়ানো বাধ্যতামূলক।
কিছু জরুরি পরামর্শ:
শিশুকে সব সময় নিজের কাছাকাছি রাখুন এবং ‘স্কিন-টু-স্কিন’ কন্টাক্ট বাড়ান। এতে সংকেতগুলো বোঝা সহজ হয়। কঠোর রুটিন না মেনে শিশুর চাহিদা বুঝে খাওয়ান এবং মা নিজে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন, কারণ মায়ের উদ্বেগ শিশুকে অস্থির করে তুলতে পারে। মনে রাখবেন, প্রতিটি কান্নাই ক্ষুধা নয়; তাই অতিরিক্ত খাওয়ানো থেকে বাঁচতে শিশুর আচরণের ধরণ পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।





