শিশুর আঙুল চোষার অভ্যাস! কখন উপেক্ষা করবেন, কখন দেবেন বিশেষ নজর? ক্ষতিকর স্বভাব ছাড়ানোর ৫টি অব্যর্থ উপায়

আঙুল চোষা শিশুদের একটি খুব স্বাভাবিক অভ্যাস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অনেক সময় শিশুকে শান্ত বা উদ্দীপ্ত করে। সাধারণত ৫ বছর বয়সের আগে পর্যন্ত এই অভ্যাস ক্ষতিকর না হলে উপেক্ষা করা যেতে পারে। তবে যদি শিশু ৫ বছরের পরও প্রবলভাবে আঙুল চুষতে থাকে, তবে দাঁত এবড়োখেবড়ো হওয়াসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে DailyHunt-এর পাঠকদের জন্য এই অভ্যাস ছাড়ানোর ৫টি কার্যকর কৌশল নিচে দেওয়া হলো:
১. 🍼 ক্ষুধার্ত কি না তা বুঝুন
অনেক শিশু খিদে পেলে না কেঁদে বরং আঙুল চোষে। তারা বুঝতে পারে না যে চুষলেই দুধ পাওয়া যায়। এই সময়ে তারা আসলে তাদের মায়েদের বোঝানোর চেষ্টা করে যে তারা ক্ষুধার্ত।
করণীয়: এ রকম পরিস্থিতিতে তাকে দ্রুত বুকের দুধ খাওয়ান। দুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে দেখবেন সে আঙুল চোষা বন্ধ করে দিয়েছে।
২. 🛌 ঘুমানোর সময় নিরাপদ অনুভব করান
ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় অনেক শিশুর নিরাপদ এবং সুরক্ষিত বোধ করার প্রয়োজন হয়। কখনো কখনো শিশু এতো ক্লান্ত থাকে যে তার ঘুমাতে অসুবিধা হয়, তখন সে আঙুল চুষে নিজেকে আরাম দেওয়ার চেষ্টা করে।
করণীয়: ঘুমানোর সময় এ ধরনের শিশুর পাশে মায়ের থাকা প্রয়োজন। মায়ের সান্নিধ্যে নিরাপদ বোধ করলে ধীরে ধীরে এই শিশু আঙুল চোষা ছেড়ে দেবে।
৩. 🧸 অলসতা দূর করতে হাতে খেলনা দিন
অলস বসে থাকা শিশুও একঘেয়েমি কাটাতে আঙুল চুষতে পারে।
করণীয়: সেক্ষেত্রে শিশুর হাতে খেলনা দিন। হাতের কাছে খেলনা থাকলে শিশু সেটাই আগে নিতে চাইবে এবং মুখ থেকে আঙুল বের করে ফেলবে। এটি একটি খুবই সহজ কৌশল।
৪. 🎨 ছবি আঁকা বা হাতের কাজে ব্যস্ত রাখুন
একটু বড় বয়সে শিশু যদি অলস বসে থাকে, তবে তার মধ্যে আঙুল চোষার ইচ্ছে বাড়বে।
করণীয়: এই সময় তাকে ছবি আঁকা, পাজল সমাধান বা অন্য কোনো হাতের কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। হাত ব্যস্ত থাকলেই সে মুখে আঙুল দিতে ভুলে যাবে।
৫. 🗣️ বুঝিয়ে বলুন: বড়দের মতো আচরণ করুন
যদি একটু বড় বয়সেও সন্তান আঙুল চোষার অভ্যাস ছাড়তে না পারে, তবে তার সঙ্গে বড়দের মতো আচরণ করুন।
করণীয়: তাকে এর ফলে কী কী সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে, যেমন দাঁতের ক্ষতি বা হাতের পরিচ্ছন্নতা—সেই বিষয়ে শান্তভাবে বুঝিয়ে বলুন। নিজে বুঝতে শিখলে হয়তো নিজেই এই অভ্যাস থেকে সে বেরিয়ে আসবে।