আমরা হাত-পা, মুখ কিংবা চুলের যত্নে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিলেও শরীরের একটি অংশকে প্রায়ই এড়িয়ে যাই—আর সেটি হলো ‘নাভি’। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, নাভি হলো শরীরের অন্যতম স্পর্শকাতর অংশ এবং ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন ক্ষেত্র। নিয়মিত নাভির যত্ন না নিলে এটি কেবল দুর্গন্ধই ছড়ায় না, বরং মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কেন নাভির পরিচ্ছন্নতা জরুরি এবং অবহেলা করলে কী কী বিপদ হতে পারে? দেখে নিন বিশেষজ্ঞদের মত:
১. ব্যাকটেরিয়ার স্বর্গরাজ্য: গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের নাভিতে প্রায় ২,০০০-এর বেশি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া বসবাস করতে পারে। যদি নিয়মিত পরিষ্কার না করা হয়, তবে ঘাম, ধুলোবালি এবং মৃত কোষ জমে সেখানে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস বংশবৃদ্ধি করে।
২. ফাঙ্গাল ইনফেকশন ও চুলকানি: নাভি গভীর এবং আর্দ্র হওয়ায় সেখানে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এর ফলে নাভি লাল হয়ে যাওয়া, অসহ্য চুলকানি এবং চটচটে তরল নির্গত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. দুর্গন্ধের উৎস: আপনি কি মাঝে মাঝে নাভি থেকে অপ্রীতিকর গন্ধ পান? এটি হলো জমে থাকা ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ার ফল। সঠিক পরিচ্ছন্নতার অভাবে এই দুর্গন্ধ আপনার অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
৪. সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি: দীর্ঘ সময় ধরে নাভিতে ময়লা জমে থাকলে সেখানে ছোট ছোট সিস্ট বা পুঁজের দানা তৈরি হতে পারে, যা পরে অস্ত্রোপচারের পর্যায় পর্যন্ত গড়াতে পারে।
কিভাবে নাভির সঠিক যত্ন নেবেন? নাভি পরিষ্কার রাখা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। বিশেষজ্ঞরা নিচের সহজ উপায়গুলো বাতলে দিয়েছেন:
প্রতিদিনের যত্ন: স্নানের সময় মাইল্ড সোপ বা বডি ওয়াশ দিয়ে আঙুলের সাহায্যে আলতো করে নাভির ভেতরটা পরিষ্কার করুন।
শুকনো রাখা: স্নান শেষে তোয়ালে দিয়ে নাভির ভেতরের জল ভালো করে শুকিয়ে নিন। আর্দ্রতা থাকলে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর সুযোগ পায়।
প্রাকৃতিক তেলের ব্যবহার: সপ্তাহে এক বা দুই দিন রাতে ঘুমানোর আগে নাভিতে কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল বা সরষের তেল লাগাতে পারেন। এটি নাভিকে আর্দ্র রাখে এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
অ্যালকোহল বা ইয়ার বাড: যদি নাভি খুব গভীর হয়, তবে ইয়ার বাডের মাথায় সামান্য একটু নুন জল বা অ্যান্টি-সেপটিক লিকুইড লাগিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা: নাভি পরিষ্কার করার সময় কখনোই নখ দিয়ে জোরে ঘষবেন না বা ধারালো কিছু ব্যবহার করবেন না। যদি নাভি থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয় কিংবা দীর্ঘক্ষণ লাল হয়ে থাকে, তবে ঘরোয়া টোটকা না খুঁজে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।