হাজার হাজার বছর ধরে আয়ুর্বেদ ও প্রাচীন চিকিৎসায় রসুনের ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু আধুনিক আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বা মডার্ন সায়েন্স কি রসুনের এই গুণাগুণকে স্বীকৃতি দিচ্ছে? সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেছে, রসুন কেবল মশলা নয়, এটি আসলে শরীরের একাধিক জটিল রোগ প্রতিরোধের এক অব্যর্থ চাবিকাঠি।
কেন ডায়েটে রসুন রাখা জরুরি? গবেষণায় উঠে আসা প্রধান কারণগুলো দেখে নিন:
১. হৃদরোগের যম (Heart Health)
গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ (Allicin) নামক উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এটি ধমনীর দেওয়ালে প্লাক বা চর্বি জমতে বাধা দেয়, ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ কমে যায়। এমনকি এটি খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতেও বিশেষ কার্যকরী।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পাওয়ার হাউস
ঠান্ডা লাগা বা জ্বরের সমস্যায় যারা ভোগেন, তাদের জন্য রসুন মহৌষধি। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন সেবনে সাধারণ সর্দি-কাশির প্রবণতা প্রায় ৬৩% কমে যায়। এতে থাকা সালফার কম্পাউন্ড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (Immunity) শক্তিশালী করে।
৩. শরীরকে টক্সিনমুক্ত করে (Detoxification)
রসুনের সালফার উপাদান শরীরের ভারী ধাতুর (যেমন— সিসা) বিষক্রিয়া থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে রক্ষা করে। এটি রক্ত পরিষ্কার করতে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যালঝাইমার্স
রসুনে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা কোষের ক্ষয় রোধ করে। এটি মস্তিষ্কের বয়সজনিত রোগ যেমন অ্যালঝাইমার্স বা ডিমেনশিয়ার হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।
কাঁচা না কি রান্না করা— কোন রসুন বেশি শক্তিশালী?
গবেষকদের মতে, রসুনের আসল গুণ হলো তার ‘অ্যালিসিন’ উপাদান। রসুন যখন থেঁতো করা হয় বা কাটা হয়, তখনই এই উপাদানটি তৈরি হয়। তবে অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে অ্যালিসিনের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই সর্বোচ্চ উপকার পেতে কাঁচা বা হালকা ভাজা রসুন খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
সতর্কতা:
যাঁদের রক্ত পাতলা করার ওষুধ (Blood Thinners) চলে বা সার্জারি হওয়ার কথা আছে, তাঁরা অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়া খালি পেটে রসুন খেলে অনেকের অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে, তাই নিজের শরীরের ধরণ বুঝে এটি গ্রহণ করুন।