বাঙালির শেষ পাতে একটু মিষ্টি দই বা টক দই না হলে যেন ভোজনটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অনেকেই হজমের সুবিধার্থে রাতের খাবারের পর এক বাটি দই খেয়ে থাকেন। কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনদের মনে মাঝেমধ্যেই উঁকি দেয় একটি প্রশ্ন— রাতে দই খাওয়া কি আদেও নিরাপদ? এই নিয়ে আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা।
বিজ্ঞান ও পুষ্টিগুণ কী বলছে?
পুষ্টিবিদদের মতে, দই একটি প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য চমৎকার। এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিজ্ঞান বলছে, রাতের খাবারে দই হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে। কারণ দইয়ে থাকা ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে।
কখন সতর্ক হতে হবে?
তবে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, রাতে দই খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। রাতে শরীরে স্বভাবতই ‘কফ’-এর প্রভাব বেশি থাকে। দই যেহেতু কফ বাড়িয়ে দেয়, তাই বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে:
সর্দি-কাশির ধাত: যাদের সাইনাস, হাঁপানি বা ঘনঘন সর্দি-কাশির সমস্যা আছে, তাদের রাতে দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে মিউকাস জমার সম্ভাবনা থাকে।
হজমের সমস্যা: যাদের হজম শক্তি অত্যন্ত দুর্বল, তাদের রাতে দই খেলে পেট ভার বা অস্বস্তি হতে পারে।
চর্মরোগ: আয়ুর্বেদ মতে, একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো সমস্যা থাকলে রাতে দই খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
রাতে দই খাওয়ার সঠিক নিয়ম:
যদি আপনি রাতে দই খেতে ভালোবাসেন, তবে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন:
টক দই বেছে নিন: মিষ্টি দইয়ের চেয়ে চিনি ছাড়া টক দই স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী।
গোলমরিচ বা জিরে গুঁড়ো: দইয়ের ঠান্ডা প্রভাব কমাতে এবং হজম সহজ করতে এতে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো বা ভাজা জিরে গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন।
ফ্রিজের ঠান্ডা দই নয়: সরাসরি ফ্রিজ থেকে বের করা খুব ঠান্ডা দই রাতে না খাওয়াই ভালো। খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে ফ্রিজ থেকে বের করে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে খান।
উপসংহার:
সংক্ষেপে বলতে গেলে, সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জন্য রাতে দই খাওয়া ক্ষতিকারক নয়, বরং উপকারী। তবে আপনার যদি শ্বাসকষ্ট বা তীব্র কফ-জনিত সমস্যা থাকে, তবে দিনের বেলাতেই দই খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। শরীর বুঝে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।





