রাতে অতিরিক্ত ঘাম, যে পরামর্শ চিকিৎসকের, জানুন বিস্তারিতভাবে

গরমের সময় স্বাভাবিকভাবেই ঘাম হয় সবার। কখনো কখনো তীব্র গরমে দরদর করে ঘাম পড়ে। আবার কখনো হালকা গরমেও ঘেমে যাই আমরা। ঘাম হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া কিন্তু স্বাভাবিক নয়। বেশি ঘাম হওয়া মোটেও ভালো নয়।
দিন শেষে রাতে ঘুমানোর সময় যদি শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, এ ক্ষেত্রে শরীর ঠান্ডা করার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া হচ্ছে ঘাম হওয়া। অনেকেই ঘাম কম হওয়ার জন্য কম তাপমাত্রাযুক্ত জায়গায় বা ঘরে ঘুমিয়ে থাকেন। কিন্তু এরপরও যদি ঘাম হয়, তাহলে এর পেছনে কারণ রয়েছে। রাতের এই ঘামকে চিকিৎসা ভাষায় বলা হয় ‘নাইট সোয়েটস’।
সম্প্রতি রাতে ঘাম হওয়ার ব্যাপারে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সাইফ হোসেন খান। এবার তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।
ঘাম হওয়ার কারণ: কোনো কারণে উদ্বেগ থেকে ঘামের পরিমাণ বেশি হতে পারে। প্যানিক অ্যাটাক, অগভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃৎস্পন্দনের গতি বেড়ে যাওয়া হচ্ছে উদ্বেগের উপসর্গ। এ জন্য রাতে ঘাম কমানোর জন্য প্রথমে উদ্বেগ কমাতে হবে। আর উদ্বেগ কমাতে আগে এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে আপনাকে।
এছাড়া হাইপারহাইড্রোসিস থেকেও রাতে ঘাম বেশি হতে পারে। হাইপারহাইড্রোসিস হচ্ছে স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজনের থেকে বেশি পরিমাণ ঘেমে যাওয়া। সাধারণত অতিরিক্ত ঘাম শরীরের দু-একটি জায়গায় হয়ে থাকে, যেমন হাত বা পায়ের তালু, বাহুমূল বা মাথা। হাইপারহাইড্রোসিসের জন্যও অনেক সময় রাতে ঘাম হতে পারে।
হাইপারহাইড্রোসিসে ঘামের প্রাথমিক ইঙ্গিতের মধ্যে রয়েছে জেগে থাকা অবস্থায় কোনো কাজ বা পরিশ্রম ছাড়াই অনেক ঘাম হওয়া। হতে পারে এটি বংশগতভাবে, আবার কখনো ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল ও থাইরওয়েডের সমস্যা থেকেও হতে পারে।
থাইরয়েড হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থি, যা হরমোন তৈরি ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে প্রভাবিত করে থাকে। এটি এমনই গ্রন্থি, যাতে কোনো জটিলতা হলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গর সমস্যা হতে পারে। এ জন্য থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ শরীরে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি করে, যা থেকে বেশি পরিমাণে ঘাম হয়। এ ধরনের সমস্যা মনে করে থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া উচিত।
এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টসসহ অন্যান্য ওষুধ খাওয়ার কারণেও অনেক সময় ঘামের মতো অস্বস্তিকর হতে পারে। কিছু ওষুধ রয়েছে যা ঘাম গ্রন্থি ও শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এসব ওষুধ সেবনের ফলে তা মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে বলে অস্বস্তি বোধ হয়। আবার ইনফেকশন থাকলেও রাতে ঘাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন যক্ষ্মা, এন্ডোকার্ডাইটিস বা হার্ট ভালভের সমস্যা, ফোড়া, অস্টিওমাইয়িলিটিসের সমস্যা। আবার এইডসের মতো ইনফেকশন থেকেও ঘাম হতে পারে। জ্বর বা ওজন কমে যাওয়ার লক্ষণ থাকতে পারে।
ঘুমে সমস্যা থাকলেও অনেক সময় রাতে অতিরিক্ত ঘাম হয়ে থাকে। কারও যদি নাক ডাকার সমস্যা বা শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকে, তাহলেও এই সমস্যা হতে পারে। আবার রক্তে শর্করার পরিমাণ অতিমাত্রায় হ্রাস পেলেও ঘাম হয়ে থাকে। শর্করার অভাবে ডায়াবেটিসের রোগীদের রাতে ঘাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ রোগীর মধ্যে যারা ইনসুলিন নেন, তাদের যদি ডোজের পরিমাণ বেশি হয় বা খাবার খাওয়ায় যদি সমতা না থাকে, তাহলেও রাতে ঘাম হওয়ার সমস্যা হতে পারে।
এদিকে অধিকাংশ নারীদের ক্ষেত্রে বয়স ৫০ হওয়ার পর মোনোপোজ দেখা দেয়। রাতে গরম লাগা ও ঘাম হচ্ছে এই রোগের মূল কারণ।
রাতে অতিরিক্ত ঘাম হলে করণীয়: রাতে ঘামের পরিমাণ যদি বেশি মনে হয় তাহলে তা স্বাভাবিক নয়। বিষয়টিকে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।