ওজন কমানোর কথা উঠলেই আজকাল সবার আগে যে পানীয়টির নাম মাথায় আসে, তা হলো ‘গ্রিন কফি’। সাধারণ কফির তুলনায় এর জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, গ্রিন কফি খেলে কি সত্যিই চর্বি গলে জল হয়ে যায়, নাকি এটি স্রেফ একটি বিজ্ঞাপনী চমক? এই নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গ্রিন কফি আসলে কী? আমরা সাধারণত যে কফি পান করি তা রোস্টেড বা ভাজা কফি বিন থেকে তৈরি। কিন্তু গ্রিন কফি হলো সম্পূর্ণ কাঁচা এবং না ভাজা কফি বিন। ভাজা না হওয়ার কারণে এর মধ্যে ‘ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড’ (Chlorogenic Acid) নামক একটি উপাদান বজায় থাকে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করে বলে মনে করা হয়।
ওজন কমাতে এর ভূমিকা কতটা? বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন কফি বেশ কিছু উপায়ে শরীরকে সাহায্য করে:
মেটাবলিজম বৃদ্ধি: গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড শরীরের বিপাক হার বা মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে শরীর দ্রুত ক্যালরি খরচ করতে পারে।
ফ্যাট শোষণ কমানো: এটি অন্ত্রে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি ধীর করে দেয়। ফলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না এবং শরীরে মেদ জমার প্রক্রিয়া ধীর হয়।
খিদে নিয়ন্ত্রণ: গ্রিন কফি পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে, যার ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে।
বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, গ্রিন কফি কোনো ‘জাদুকরী ওষুধ’ নয়। শুধুমাত্র গ্রিন কফি খেয়ে সারাদিন শুয়ে-বসে থাকলে ওজন কমবে না। এর সেরা ফল পেতে হলে: ১. প্রতিদিনের সুষম ডায়েট চার্ট মেনে চলতে হবে। ২. অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম বা হাঁটাচলা করতে হবে। ৩. গ্রিন কফিতে চিনি বা মধু মেশানো যাবে না।
অতিরিক্ত পানে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: মনে রাখবেন, এতেও ক্যাফেইন থাকে। অতিরিক্ত গ্রিন কফি পান করলে অনিদ্রা, উদ্বেগ, পেটের সমস্যা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। দিনে ২ কাপের বেশি গ্রিন কফি না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।